নয়াদিল্লি: ২৯ মার্চ দিনটি ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই দিনই প্রথমবার কোনো ভারতীয় ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেছিলেন। এই সাহসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন মঙ্গল পাণ্ডে, যাঁকে পরে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ২৯ মার্চের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১৮৫৭ সালে এই দিন থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনের গতিপথ বদলে যায়, যখন মঙ্গল পাণ্ডে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা করেন। তাঁর এই পদক্ষেপ দ্রুত সারা দেশে এক বৃহৎ আন্দোলনের রূপ নেয়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি স্থাপন করে। ইংরেজ শাসকরা এই বিদ্রোহ দমন করার বহু চেষ্টা করলেও আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বঙ্গের ব্যারাকপুর ছাউনিতে মঙ্গল পাণ্ডে ৩৪তম বঙ্গীয় দেশীয় পদাতিক বাহিনীর অন্তর্গত হয়ে দুইজন ইংরেজ আধিকারিকের উপর আক্রমণ করেছিলেন। এই ঘটনার পর তাঁকে ৭ এপ্রিল ১৮৫৭ সালে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। স্থানীয় জল্লাদরা ফাঁসি দিতে অস্বীকার করলে কলকাতা থেকে জল্লাদ এনে তাঁর সাজা কার্যকর করা হয়।
২৯ মার্চের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা:
১৮০৭: জার্মানির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভিলহেল্ম ওলবার্স ‘ভেস্তা’ নামক একটি ক্ষুদ্র গ্রহ আবিষ্কার করেন, যাকে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল ক্ষুদ্র গ্রহ হিসেবে ধরা হয়।
১৮৪৯: মহারাজা দুলীপ সিংহ তাঁর পিতা রণজিৎ সিংহের সিংহাসন ত্যাগ করে পাঞ্জাবের উপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখল মেনে নেন।
১৮৫৭: ব্যারাকপুর (কলকাতা)-এ মঙ্গল পাণ্ডে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা করেন।
১৮৫৯: বাহাদুর শাহ জাফর দ্বিতীয়কে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে দোষী সাব্যস্ত করে রেঙ্গুন (বর্তমানে ইয়াঙ্গুন)-এ নির্বাসিত করা হয়।
১৯৫৪: দিল্লিতে জাতীয় আধুনিক শিল্পকলা সংগ্রহশালার উদ্বোধন হয়।
১৯৯৯: উত্তর প্রদেশের কুমায়ুন ও চামোলি অঞ্চলে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
২০০২: দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হয়।
২০২০: ভারতে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ১০০০ অতিক্রম করে।
২০২৪: ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্র দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৩ জন পাকিস্তানি নাগরিককে উদ্ধার করে, যারা একটি ইরানি মাছ ধরার জাহাজের নাবিক ছিলেন।
এই দিনটি ভারতীয় ইতিহাসে সাহস, সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।










