হিন্ডেনবার্গের আদানি রিপোর্ট থেকে হওয়া ২.২২৫ কোটি ডলার মুনাফা উদ্ধারের প্রস্তুতিতে সেবি

a6ee2700-452f-4a57-96ce-d88e9aec67e4

নয়াদিল্লি: মার্কিন শর্ট-সেলিং সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ভারতীয় আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। ওই রিপোর্টে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে শেয়ারের দাম কারসাজি করার পাশাপাশি একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। রিপোর্টটি প্রকাশ্যে আসার পর আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দামে ব্যাপক পতন হয়।

এখন ওই রিপোর্টের জেরে কথিতভাবে হওয়া মুনাফা উদ্ধারের জন্য ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে।

রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশের পর শেয়ারের দামে যে পতন হয়েছিল, তার সুযোগ নিয়ে শর্ট-সেলিংয়ের মাধ্যমে হিন্ডেনবার্গসহ কয়েকটি সংস্থা প্রায় ২.২২৫ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ২১০ কোটি ভারতীয় রুপি) মুনাফা করেছিল। সেবি এখন এই মুনাফা উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

রিপোর্টে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সেবি সেই সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য শুনতে শুরু করেছে, যাদের বিরুদ্ধে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সন্দেহ রয়েছে।

সেবি ২০২৪ সালেই জানিয়েছিল যে মার্কিন বিনিয়োগ সংস্থা কিংডন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত শেয়ারগুলিতে শর্ট পজিশন তৈরি করেছিল।

সেবির মতে, এই শর্ট পজিশনটি কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মরিশাসভিত্তিক একটি তহবিলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।

কীভাবে মুনাফা করা হয়েছিল?

শর্ট পজিশন শেয়ারবাজারে ব্যবহৃত এমন একটি বিনিয়োগ কৌশল, যেখানে বিনিয়োগকারী শেয়ারের দাম কমলে মুনাফা করেন।

এই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারী প্রথমে কোনও শেয়ার ধার নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করেন। এরপর শেয়ারটির দাম কমে গেলে সেটি কম দামে কিনে ধারদাতাকে ফেরত দেন। শেয়ার বিক্রি এবং পরে কম দামে কেনার মধ্যকার পার্থক্যই বিনিয়োগকারীর মুনাফা।

হিন্ডেনবার্গ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত তাদের রিপোর্টে দাবি করেছিল, আদানি গোষ্ঠী ভারতীয় সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। তবে আদানি গোষ্ঠী হিন্ডেনবার্গের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে রিপোর্টটিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছিল।

এরপরও রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দামে ব্যাপক পতন ঘটে। সেই সময় আদানি গোষ্ঠীর মোট বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে যায়।

এখন সেবি হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশের আগে তৈরি করা শর্ট পজিশন এবং তা থেকে হওয়া কথিত মুনাফা নিয়ে তদন্ত করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনার পর নিয়ম অনুযায়ী কথিত মুনাফা উদ্ধারের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে বাজার নিয়ন্ত্রক।

About Author

Advertisement