শহরের পাঁচ জায়গায় তল্লাশি ইডির

IMG-20260707-WA0096

কলকাতা: মঙ্গলবার সকালে শহরের পাঁচ জায়গায় তল্লাশির জন্য হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রের খবর, তৃণমূলের তহবিল নিয়ে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই তল্লাশি। এই তল্লাশিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অ্যাভিয়েশন সংস্থার ডিরেক্টরের বাড়িতেও পৌঁছে যায় ইডি। ইডি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় ইডির আলাদা আলাদা দল। এই তালিকায় রয়েছে অভিষেক ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর অফিস ও বাড়িও। সূত্রের খবর, ওই ব্যবসায়ীর সংস্থা থেকে অভিষেকের বিমানভাড়া আসত। আর সেই কারণেই তৃণমূলের নিজস্ব তহবিলের সঙ্গে এর কী যোগ, তা খুঁজে বের করত তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার একাধিক জায়গায় এই তল্লাশি অভিযান।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, তৃণমূলের তহবিল নিয়ে আগেই অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। আর্থিক তছরুপের অভিযোগ দায়ের হয় সাইবার ক্রাইম শাখায়। এছাড়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদনও জানিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেই নিজের পরিচয় দেন। সেই অ্যাকাউন্টের লেনদেনেই এবার নজর ইডি-র। এরপরই মঙ্গলবার সকালে রাজারহাটে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামে এক সংস্থার ডিরেক্টরের বাড়ি পৌঁছে গিয়েছে ইডি। জানা গিয়েছে, এই সংস্থার বিমানই ব্যবহার করতেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পূর্বতন শাসক দলের অন্যান্য সদস্যরা। পবন জাজু ও রাজেশ জাজু নামে দুই ডিরেক্টর সল্টলেকের ওই বাড়িতে থাকেন বলেও ইডি সূত্রে খবর। এদিন তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকে। এই সংস্থার অন্য একটি অফিসের ঠিকানা রাধাবাজার। সেখানেও চলে তল্লাশি। তৃণমূলের তহবিলের টাকায় ওই সংস্থার বিমান ভাড়া নেওয়া হত কি না, এই বিষয়গুলিই মূলত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এদিকে এই ঘটনায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ওই তহবিল থেকেই অভিষেকে চার্টার্ড বিমানের টাকা খরচ করা হত। তিনি বলেন, ‘অ্যাকাউন্টে যে টাকা আছে, এটা যে কাটমানির টাকা নয়, ডাকাতির টাকা নয়, তোলাবাজির টাকা নয়, নানা ধরনের দুর্নীতির টাকা নয়, এটা প্রমাণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই যে চার্টার্ড ফ্লাইটের ভাড়া হয়ত এই টাকা থেকেই খরচ হচ্ছে।’ এই অভিযোগের সারবত্তা খুঁজতে এবং খরচের উৎস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে চায় ইডি। এছাড়া এক বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে প্রচুর কাটমানি ঢুকেছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখতে চান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

About Author

Advertisement