বারুইপুর: বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। সিট গঠন করে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এই আবহে মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত।৬ সদস্যের সিট গঠন করে বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বয়ান মিলিয়ে দেখতে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিজি-সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখার পাশাপাশি যে জায়গা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে, সেই জায়গাও ঘুরে দেখেন তিনি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, একজন অপরাধীও যাতে ছাড় না পায়, তা দেখা হবে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ভূমিকাও যে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। মঙ্গলবার বারুইপুরে যান সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তার পরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। বারুইপুরে রেললাইনের ধারে যে পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই জায়গা ঘুরে দেখেন তিনি। কী ঘটেছিল, কী ভাবে তদন্ত হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী কী তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখেন ডিজি। কথা বলেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। সিদ্ধনাথ গুপ্ত বলেন, ‘‘তিন জন গ্রেফতার হয়েছে। তদন্ত যে ভাবে এগোবে আমরা সে ভাবে জানাব।’’ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নির্যাতিতার পরিবার এবং স্থানীয়দের অসন্তোষের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধনাথ বলেন, ‘‘আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি। পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন আছে, দেরিতে রেসপন্স করেছে। পুরো বিষয়টা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা বলেন, ‘যে হেতু ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলা যাবে না। এখনও তিন জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জানানো হবে। যদি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যে দেরিতে রেসপন্স করা হয়েছে বা কিছু, পুরোটাই তদন্ত করে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেওয়া হবে।’ শনিবার, ৪ জুলাই বন্ধুর জন্মদিনে যাওয়ার পথে খুন হয় ষষ্ঠী শ্রেণির ওই ছাত্রী। পরের দিন বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই পুকুর থেকে উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি দেহ। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে, যৌন নির্যাতন ও অত্যাচারের প্রমাণ মিলেছে বলেই খবর। এমনকী যখন ওই নাবালিকাকে পুকুরে ফেলা হয়, তখনও তার প্রাণ ছিল। রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে কিশোরীর দেহ মেলার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দেহ ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। বিক্ষুব্ধ জনতার রোষের কবলে পড়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক যুবকের।










