কলকাতা: বারুইপুর-সহ একাধিক ইস্যুতে মিছিলের অনুমতি চেয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের তরফ থেকে মেলে অনুমতি, তবে পাশাপাশি বেঁধে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্তও। সঙ্গে এও জানানো হয়েছে, ২ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে হবে কর্মসূচি। মিছিলের জন্য আমজনতাকে সমস্যায় ফেলা যাবে না। পাশাপাশি আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মিছিলটি বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ করতে হবে। আমজনতার জন্য একটি লেন খোলা রাখতে হবে। আড়াইটের সময় শুরু করে মিছিল শেষ করতে হবে সাড়ে চারটের মধ্যে। আদালতের সাফ নির্দেশ, ১০০০ জনের বেশি শামিল হতে পারবে না এই মিছিলে। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল বাংলা। তবে দ্রুত পদক্ষেপ করতে দেখা গেছে রাজ্য সরকারকে। ঘটনা সামনে আসার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে তিনজনকে। পাশাপাশি গঠন করা হয় সিট। এদিকে রবিবারই মৃতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর মঙ্গলবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুর যান তিনি। এদিকে সোমবার বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে কালীঘাটে মোমবাতি মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায়, গত ১৫ বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পার্কস্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি থেকে অভয়া কাণ্ড, প্রতিক্ষেত্রেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিষয়গুলোকে ‘ছোট ঘটনা’ বলে প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। কখনও নির্যাতিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কখনও নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় তিনি বলেছেন, ‘লাভ অ্যাফেয়ার ছিল’। অভয়া কাণ্ডের প্রতিবাদে যখন গোটা বাংলা রাস্তায় নেমেছিল, সেটাকে ‘হুজুগ’ বলে দাগিয়েছিলেন তিনি। একটা সময়ের পর আন্দোলন ভুলে সকলকে উৎসবে ফিরতে বলেছিলেন। পালাবদল হতেই যেন উলটো সুর! বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামতে মরিয়া তিনি। আসলে এভাবেই মৃত্যুকে হাতিয়ার করে মমতা ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ফেরার চেষ্টা করছেন বলেই দাবি নিন্দুকদের।










