ফাঁসির সাজা ৩৮ আসামির
আহমেদাবাদ: আহমেদাবাদে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩৮ জনেরই ফাঁসির সাজা বহাল রাখল গুজরাত হাই কোর্ট। বহাল রইল ১১ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও। ২০০৮ সালে আহমেদাবাদ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এই মামলায় বিশেষ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাত হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল দোষীরা। মঙ্গলবার সেই মামলার সমস্ত আপিল খারিজ করে ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখল আদালত। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই ২১টি ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আহমেদাবাদ। হামলায় মোট ৫৬ জন নিহত হন। জখম হন ২০০-রও বেশি। বিস্ফোরণের মূল লক্ষ্য ছিল অহমদাবাদের হাসপাতালগুলি। নিহত ৫৬ জনের মধ্যে অহমদাবাদের সিভিল হাসপাতালের বিস্ফোরণেই প্রাণ যায় ৩৭ জনের।
ধারাবাহিক ওই হামলার দায় স্বীকার করে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন। তদন্তে উঠে আসে, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে কেরলের এর্নাকুলমে নিষিদ্ধ সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিমি)-র একটি গোপন ডেরায় বোমা হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে অহমদাবাদের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২১টি বিস্ফোরণ হয়। পরবর্তী সময়ে বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে আসে ৪৯ জন অভিযুক্তের নাম। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অহমদাবাদের এবং সুরতে ৩৫টি ভিন্ন মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে অহমদাবাদে ছিল ২০টি এবং সুরতে ছিল ১৫টি মামলা। বিস্ফোরণের কয়েক দিন পরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ২৯টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। হামলার ১৪ বছর পরে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অহমদাবাদের বিশেষ আদালত ৪৯ জন অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় বিশেষ আদালত। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অহমদাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আসামিরা। ২০২২ সালে এই মামলায় অভিযুক্ত ৭৭ জনের মধ্যে ২৮ জনকে অব্যাহতি দেয় বিশেষ আদালত। দোষী সাব্যস্ত করা হয় ৪৯ জনকে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনকে ফাঁসির সাজা ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কেন বাকি ১১ অভিযুক্তকে ফাঁসি নয়, যাবজ্জীবন দেওয়ার হল তারও ব্যাখ্যা দেয় আদালত। বলা হয়, এরা মূল চক্রীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। কিন্তু আহমেদাবাদ বিস্ফোরণে তাদের ভূমিকা ফাঁসি দেওয়ার মতো নয়। তাই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১১ জনকে। বিশেষ আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুজরাত হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল অপরাধীরা। তবে মঙ্গলবার এই রায় ও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা সমস্ত আপিল খারিজ করে বিশেষ আদালতের নির্দেশই বহাল রাখল গুজরাত হাই কোর্ট।










