মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

IMG-20260701-WA0118

‘’যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ধ্বংসলীলা’’

ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা তুলে ধরে তাঁর মন্তব্য, ‘এখন যেখানেই হাত দিচ্ছি, শুধু ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি।’ বুধবার স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের পাশাপাশি বামফ্রন্ট সরকারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকেও স্মরণ করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজ বিধানচন্দ্র রায়কে নিয়ে বলা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবাবুর একটা কথা মনে পড়ছে। সেই কথাটা আরও বেশি করে মনে পড়ছে, কারণ আমি ঠিক তার উল্টো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি এখন। জ্যোতিবাবু মুখ্যমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরে বলেছিলেন, আমি যেখানে যা কিছু শুরু করতে যাচ্ছি, দেখি বিধানচন্দ্র রায় শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন। আর আজ আমার মনে হচ্ছে, আমি যেখানেই হাত দিচ্ছি, ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি। এই দুই ভিন্ন মতের মধ্যে দিয়েই এগোতে হবে। এখান থেকে বের করে আনতে হবে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে।’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে বড়সড় গাফিলতি থেকে গিয়েছে। সেই কারণেই বহু মানুষকে এখন বাইরের রাজ্যে চিকিৎসা করাতে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘ভেলোর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদে সর্বত্র শুধু বাঙালি, গরিব মানুষকে দেখতে পাই। কেন, এ রাজ্যে চিকিৎসা দেওয়া যায় না? এত হস্তক্ষেপ, এত দমনপীড়ন, চিকিৎসাব্যবস্থা এত অবহেলিত! এটা কি কাম্য ছিল? কী করে রেখেছেন হাসপাতালগুলোর অবস্থা?’ শুভেন্দু জানান, রাজ্যে পালাবদলে ভয়-ভীতি দূর হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে অগ্রাধিকার হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকীর্ণ রাজনীতি থাকবে না। এখানে আমরা-ওরা থাকবে না। সমস্ত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।’ এ দিন বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘বিধাননগর মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল’ রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাংলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য ভিন্‌রাজ্যে ছুটতে হচ্ছে, অথচ দেশ-বিদেশের নানা নামী স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে এই রাজ্যের মানুষই উচ্চ পদে আসীন। অন্যান্য রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা চালু থাকায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসার বিপুল খরচ থেকে রেহাই পাচ্ছেন, কিন্তু বিগত বছরগুলিতে পশ্চিমবঙ্গবাসী এই কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘হাসপাতালগুলির অবস্থা আজ বেহাল। স্বাস্থ্য ভবন থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজগুলির করুণ দশা। তবে আমাদের সরকার আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর যৌথ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং রাজ্যে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে।’’ একই সঙ্গে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ প্রণয়নের ফলে সরকারি চিকিৎসকেরা এখন সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে ২০০টি নতুন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০২ নম্বরে ফোন করলেই মিলবে এই অ্যাম্বুল্যান্স। মূলত গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এ ছাড়াও, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জরুরি শয্যার প্রয়োজন হলে, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

About Author

Advertisement