রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন। তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে ডিম-পাথর। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের নাম। বুধবার তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম, পাথর। বিষয়টি নিজেই ফেসবুক লাইভ করে শেয়ার করেন তৃণমূল সাংসদ। বুধবার দুপুরে নদিয়ার কালীগঞ্জে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে তৃণমূল কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন মহুয়া মৈত্র। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন দলের বেশ কয়েক জন নেতা-কর্মীও। মহুয়াদের বৈঠক চলার সময় তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিজেপির কয়েক জন কর্মী-সমর্থক। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মহুয়া গাড়ি থেকে নেমে দলীয় কার্যালয়ে ঢোকার সময়েই কয়েক জন তাঁকে কালো পতাকা দেখান। কার্যালয়ের ভিতর ঢুকে যান তৃণমূল সাংসদ। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কার্যালয়ের দোতলা থেকে ফেসবুক লাইভ করতে থাকেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেতা-কর্মীরা এই ধরনের কাজ করে গেলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। মহুয়ার ফেসবুক ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, দোতলার জানলা লক্ষ্য করে ডিম, পাথর এমনকি গোবর ছোড়া হচ্ছে। ডিম-হামলা থেকে রক্ষা পাননি মহুয়া নিজেও।

ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়েছিল কালীগঞ্জ থানার চার পুলিশকর্মী। কিন্তু তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। শেষমেশ ঘটনাস্থলে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। মহুয়ার অভিযোগ,’ প্রত্যেকেই বিজেপি কর্মী। রাজ্য সরকার বদল হওয়ার পরে আইন-শৃঙ্খলা শিকেয় উঠেছে। পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার। এবার আমাকে হামলা করার ছক করেছে বিজেপি। এরা কেউ সাধারণ মানুষ নয়, এঁরা বিজেপি কর্মী।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা করা হয়। তবে মহুয়া মিত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার এর আগেও চেষ্টা হয়েছিল। গত ১৩ জুন কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল মহুয়ার। সেই খবর পেয়েই আদালত চত্বরে জড়ো হন বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা। পাল্টা মহুয়া সে দিন বলেছিলেন, ‘প্রত্যেকটা বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করব। থানায় যাব। এখন পুলিশ আপনাদের, হাইকোর্টে যাব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাব।’










