অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি
অবশেষে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল অন্নপূর্ণা যোজনার। আর সেইসঙ্গে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হল উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। বুধবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে এই প্রকল্পের সূচনা করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই অনুষ্ঠান থেকে তিনি বলেন, ‘১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৬ লক্ষ ফর্ম বাতিল হয়েছে। ক্রাইটেরিয়া ফিলআপ করেননি। বাকি ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি ঝাড়াই বাছাইয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। আজ দুপুর ১টায় ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জনকে টাকা ট্রান্সফার করলাম। রাত ১২টা পর্যন্ত পোর্টালে আপলোড হতে হতে আরও টাকা ঢুকতে শুরু করবে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের টাকা উপযুক্ত লোকেরাই পাবেন। শুভেন্দু অধিকারী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ২ কোটির কাছাকাছি অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল। এই সরকার সার্ভে করে দেখেছে, ২৭ লক্ষ এমন নাম আছে যাঁরা ভারতীয় নন বা ভোটার লিস্টে নাম নেই, এখানে থাকেন না, মৃত কিংবা একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম তুলে রেখেছেন। সেই সব নাম বাদ পড়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সরকারের টাকা উপযুক্ত প্রাপকরাই পাবেন। আমরা একজন যোগ্যকেও বাদ দেবো না। তবে সরকারের টাকা কোনও অভারতীয় পেতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছি, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে এসেছেন। সিএএ’তে আবেদন করেছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে যতক্ষণ না সিএ্এ নিষ্পত্তি হচ্ছে, এই সামাজিক ভাতা চালু থাকবে। প্রশ্ন তুলতে পারেন, এরা মূলত হিন্দু। আমরা লোকধর্ম পালন করেছি। যাঁরা অ্যাজুডিকেট হয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন, তাঁদেরও যতক্ষণ না ট্রাইব্যুনালে বাতিল বলে ঘোষণা করা হচ্ছে, আমরা এই ভাতা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ভারতীয় না হলে তিনি টাকা পাবেন না।’ অন্নপূর্ণা যোজনার বরাদ্দ, ১২ পাতার ফর্ম সব নিয়ে বিভিন্ন অংশে সামালোচনা হয়েছিল। এ দিন সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাদের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু ছাড়াই-বাছাইয়ের পর যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হল। আমরা চাই না কোনও যোগ্য বাদ যাক। কিন্তু অযোগ্যরা পাবেন না। এটা বিজেপির, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর টাকা নয়, সরকারের টাকা। অপব্যবহার হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “মূল আদিবাসী-সহ পাহাড়ের অনেকে মহিলা টাকা পেয়েছেন। আগের ২ কোটি প্রাপকদের মধ্যে পুরুষরাও টাকা পাচ্ছিলেন। তাদের নাম বাদ দিয়েছি। এছাড়াও কোনও অভারতীয় এই টাকা পাবেন না।” সঙ্গে তিনি আবার জানিয়েছেন সিএএ ও এসআইআর ট্রাইব্যুনালে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে তিনি বলেন, “১২ পাতার ফর্ম অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু এই ফর্মের অনেকগুলি পাতায় লেখার কিছু নেই। তথ্য যাঁরা দিয়েছেন তাঁরা শুধু অন্নপূর্ণা নয়, অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প পাবেন। আলাদা করে কিছু ফর্ম পূরণ করতে হবে না। আপনারা ধৈয্য ধরে এই কাজ করেছেন ধন্যবাদ জানাই।” এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি আধিকারিকরাও। মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল থেকে এই বিভাগের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই দফতরের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া ও তাঁর টিম অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই আবেদনগুলি ছাড়াই-বাছাই করেছেন। আমরা তো সময় বলে দিই। বাকি কাজ তাঁদের করতে হয়। অনেক ধন্যবাদ জানাই।” সম্প্রতি রাজ্য সরকার যে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করেছিল, তাতে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৮ লক্ষ ১৫ হাজার জন নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁদের প্রত্যেকেই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। বিরোধীদের অনেকেই অভিযোগ তুলতে শুরু করেছিল যে, আগের সরকারের যে বরাদ্দ ছিল, এই সরকার বরাদ্দ মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে উপভোক্তার সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। বুধবার ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি ‘বৈধ’ উপভোক্তার কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা এক জন উপভোক্তাকেও বাদ দেব না। আমরা উপভোক্তা বলি না। আমরা বলি এটা আপনার অধিকার।”










