নেত্র বিক্রম বিমালি
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী এলাকা রাসুওয়া ও ভোতে কোশিতে ভয়াবহ বন্যার পর এখন পর্যন্ত ৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা মৃতদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। বন্যার কারণে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নেপাল সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি জেলাকে ‘দুর্যোগকবলিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন নেপাল সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৭৯ জন সদস্য এবং সেই সঙ্গে লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬০ জন ও নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ৩৫ জন কর্মী।
একইভাবে, মোট ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর—যাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন—সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও তথ্য যাচাইয়ের প্রচেষ্টা চলছে। বন্যায় নেপালের জ্বালানি, পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ক্ষতির ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গাড়ি চলাচলের উপযোগী ও ঝুলন্ত সেতুসহ ২০টিরও বেশি সেতু ভেসে গেছে; এছাড়া আরও ১৯টি সেতু ও ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
পাশাপাশি, চীনের সাথে সংযোগকারী নেপাল টেলিকমের ফাইবার-অপটিক লাইন এবং ২৫টিরও বেশি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার তোড়ে অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংকের কার্যালয় ভেসে গেছে। নুয়াকোটের কেন্দ্রীয় কারাগারের ভবন ও সীমানা প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানকার ৮০০ বন্দিই নিরাপদ বলে জানা গেছে।
চীন সীমান্তের দিকে ‘লেন্দে খোলা’ (নদী) অবরুদ্ধ হয়ে যে হ্রদটি সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি অপসারিত হয়নি; ফলে ভোটে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে আবারও বন্যার ঝুঁকি রয়ে গেছে। রাসুয়া, ধাদিং ও নুয়াকোট জুড়ে বন্যা-সংক্রান্ত আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের ছয়টি ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ত্রিশূলী ও ভটে কোশী নদী ভারতের দিকে প্রবাহিত হয়ে গণ্ডক (নারায়ণী) নদীর সাথে মিলিত হয়েছে; তাই ভারতের বিহার রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় পানির স্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিষদের এক বৈঠকে অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদে বিদেশমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজের জন্য পূর্বানুমতি ছাড়াই ড্রোন ওড়ানোর বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতায় সমগ্র সরকারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে।










