বিরাটনগর: নেপাল–চীন বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার তাতোপানি নাকা দেড় মাস ধরে ভূমিধসের কারণে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী বাণিজ্যের কাঠামোগত দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চীনের দিকে শুল্ক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রায় ৮৫টি কনটেইনার থেকে শুরু করে নেপালে প্রবেশ করা পণ্যবাহী যান পর্যন্ত অনেক যানবাহন পথে আটকে রয়েছে। লিপিং, ইকো এবং ডাক্লাং এলাকায় সড়ক ক্ষয় ও ভূমিধসের কারণে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তাতোপানি নাকার সমস্যা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়। ভৌগোলিক ঝুঁকি, দুর্বল অবকাঠামো, সীমান্তপারের সমন্বয়ের ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূমিধস ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও এর অন্যতম কারণ। ভূমিকম্পের পর পুনরায় চালু হলেও বর্ষাকালেও নির্বিঘ্নে পরিচালিত হওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য অবস্থায় নাকাটি এখনও পৌঁছাতে পারেনি।
তাতোপানি দিয়ে ফলমূল, শাকসবজি, তৈরি পোশাক ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি হয়। ফলে নাকা বন্ধ থাকায় বাণিজ্য ব্যয়, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বাজারদরের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। নেপালের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, কারণ রাসুওয়া ও কোরলার মতো বিকল্প উত্তরাঞ্চলীয় নাকাগুলোও বর্ষাকালে ভূমিধসের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়।
সড়ক বিভাগ আটকে থাকা কনটেইনারগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং বর্ষা শেষে ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলো স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সড়ক নির্মাণ যথেষ্ট নয়। চীনের সঙ্গে সীমান্তপারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিকল্প পথ, জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত কারিগরি সমন্বয়ও জরুরি।
তাতোপানি নাকার এই অবরোধ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে~
নেপাল–চীন বাণিজ্য সম্প্রসারণের ভিত্তি শুধু বাণিজ্যিক চুক্তি নয়; নির্ভরযোগ্য সীমান্ত অবকাঠামো এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।









