যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা বাণিজ্য যুদ্ধ: কার্নির কঠিন পরীক্ষা

589e57c3-9219-4740-aeaa-3a271a70fecc

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে কয়েক দশক ধরে বজায় থাকা অর্থনৈতিক সহযোগিতা এখন গুরুতর উত্তেজনার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে দিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তাৎক্ষণিক সমঝোতার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিকভাবে এই সিদ্ধান্ত যতটা সাহসী মনে হচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ।
কানাডার প্রায় ৭০ শতাংশ রপ্তানি মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় মার্কিন শুল্কের পাল্টা জবাব দিলে কানাডার শিল্প, ভোক্তা ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে ক্রমাগত আরও ছাড় দাবি করা হলে সমঝোতা করতে থাকাও কানাডার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে অটোমোবাইল খাত-সংক্রান্ত মার্কিন দাবি, কানাডার অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে দেশটির চুক্তিতে হস্তক্ষেপ এবং মার্কিন মদ্যপানীয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয় রয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে নতুন দাবি উত্থাপনের অভিযোগ করেছে।
জনমত কঠোর নীতির পক্ষে থাকলেও কার্নির সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো জনমত ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জয়ী হওয়াই যথেষ্ট হবে না; কানাডার অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বৈচিত্র্য এনে নিজেদের শিল্প ও বাজারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রকৃত পরীক্ষা।

About Author

Advertisement