নয়াদিল্লি: ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কট্টরপন্থী সামরিক সংগঠন ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ বাহিদি এবং তাঁর সহযোগীরা মূল নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করেছেন, যার ফলে উদারপন্থী নেতারা কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছেন।
ক্ষমতার এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক নীতিতে। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর হরমুজ প্রণালী খোলার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু আইআরজিসি তাঁর এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। কট্টরপন্থীদের মতে, মার্কিন চাপের জবাবে হরমুজ বন্ধই রাখা উচিত। এই সিদ্ধান্তের ফলে পারস্য উপসাগরে শতাধিক জাহাজ আটকে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার মুখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন বাহিদি এবং মুজতবা খামেনেই ইরানের প্রধান সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হয়ে উঠেছেন, যার ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ইরানের আলোচনাকারী দলকে তেহরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে হরমুজে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যখন ইরান ভারতীয় জাহাজসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করেছে। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি কার্গো জাহাজ দখলে নেওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।








