‎সল্ট লেক স্টেডিয়ামের বিশৃঙ্খলা নিয়ে মুখ খুললেন শতদ্রু দত্ত, মেসিকে কলকাতায় আনা নিয়ে আক্ষেপ

IMG-20260512-WA0057

কলকাতা: আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে সল্ট লেক স্টেডিয়ামে হওয়া ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মুখ খুললেন অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত। নিজেকে ‘বলির পাঁঠা’ দাবি করে তিনি বলেন, মেসিকে কলকাতায় আনার জন্য তাঁর আজীবন আক্ষেপ থাকবে। একই সঙ্গে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মাঠে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনার জন্য পুলিশি ব্যর্থতাই দায়ী।
‎উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বহু দর্শক চড়া মূল্যের টিকিট কেটেও মেসির এক ঝলক দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালান। ঘটনার পর শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
‎এই প্রসঙ্গে শতদ্রু দত্ত বলেন, “মেসিকে কলকাতায় আনার জন্য আমার সবসময় আক্ষেপ থাকবে।
কলকাতার সঙ্গে আমার আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। আমি চেয়েছিলাম এই শহরের মানুষ মেসিকে কাছ থেকে দেখুক। কিন্তু যা হয়েছে, তা পুরোপুরি পুলিশের ব্যর্থতা।”
‎তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে এই অনুষ্ঠানের জন্য ‘জেড প্লাস’ স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। শতদ্রুর দাবি, “অনুষ্ঠানের প্রতিটি বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছিল। কারা মাঠে উপস্থিত থাকবেন, তার সম্পূর্ণ তালিকা পুলিশের অনুমোদিত ছিল।”
‎তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শতদ্রু বলেন, “পুলিশ মাত্র আট থেকে দশজনকে মাঠে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। অথচ এক অভিজ্ঞতাহীন ক্রীড়ামন্ত্রী সমর্থকদের আবেগ নিয়ে খেলেছেন এবং তার দোষ আমার ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। তিনি তাঁর পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছেন।”
‎তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তালিকায় ছিলেন শাহরুখ খান, লিওনেল মেসি, তাঁর দলের কয়েকজন সদস্য, লুইস সুয়ারেজ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কয়েকজন শিশু এবং তিনি নিজে। এই তালিকায় অরূপ বিশ্বাসের নাম ছিল না বলেও তাঁর দাবি।
‎শতদ্রু দত্ত আরও বলেন, “আমি কোনও দুর্নীতি করিনি। নতুন সরকার যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে, সেটাই চাই। বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্ত ছিল প্রহসনের মতো। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, শুধু আমাকে কেন? কাউকে বাঁচানোর জন্য আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।”
‎তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ যদি যথাযথ কঠোরতা দেখাত, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

About Author

Advertisement