মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে। তৃণমূল সুপ্রিমোকে হাইকোর্টে পৌঁছতে দেখে অবাক হন অনেকেই। সঙ্গে ছিলেন কুণাল ঘোষ ও দোলা সেন। পরে মমতার আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুর নিয়ে ইলেকশন পিটিশন করেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ওই সংক্রান্ত বিষয়েই হলফনামা দাখিল করেছেন।
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের নির্বাচনে ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে তাঁকে পরাজিত করেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। এবার সেই নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে হলফনামা দাখিল করেন ভবানীপুরের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী মমতা। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতাকে হারান শুভেন্দু। সেই বারও নির্বাচনী ফলকে চ্যালেঞ্জ করে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেছিলেন মমতা। সেই মামলা এখনও বিচারধীন। এবার ভবানীপুরের ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ করেও ফের একই পথে হাঁটলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর থেকে স্পষ্ট, পরপর দু’বার ভোটের ফলে পরাজিত হয়েও হার মানতে নারাজ মমতা। দুটি ক্ষেত্রেই বিরোধী একজনই, সেই শুভেন্দু অধিকারী। একুশের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ভোটে জয়ী হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হয়েছিলেন শুভেন্দু। এরপর আদালতে প্রয়োজনীয় কাজ মিটিয়ে ফের গাড়িতে উঠে কোর্ট চত্বর থেকে বেরিয়েও যান দ্রুতই। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, গত ৪ মে, ফল প্রকাশের দিনই ভবানীপুরের গণনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে পৌঁছে গিয়েছিলেন গণনাকেন্দ্রে। তাঁকে, তাঁর এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গণনার গতি ইচ্ছাকৃত শ্লথ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, গণনার দিন কোনও কারচুপি হয়েছে বলে মনে হলে যে কোনও প্রার্থী মামলা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আদালত প্রথমেই ইভিএম সংরক্ষণের নির্দেশ দিতে পারে। ফল প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে পুনরায় গণনার নির্দেশও দিতে পারে আদালত।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার সওয়াল করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিন হাই কোর্টে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। এজলাস থেকে মমতা বেরনোর পরই তাঁকে ঘিরে তুমুল বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় আদালত চত্বরে। মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। সেই ঘটনার প্রায় ১ মাস পর সোমবার ফের হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।










