কলকাতা: অভিষেক যখন সিআইডি দফতরে গোয়েন্দা আধিকারকিদের প্রশ্নের মুখে, ঠিক তখনই তাঁর একাধিক বাসভবন ও সম্পত্তিতে হানা দিতে দেখা গেল কলকাতা পুরসভাকে। মঙ্গলবার সাতসকালে এই জোড়া ধাক্কায় ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের অস্বস্তি এক ধাক্কায় বহু গুণ যে বেড়ে গেল তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর আত্মীয়দের একাধিক ঠিকানায় একের পর এক আইনি নোটিস পাঠানো হয়। এদিন ১২১ নম্বর কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে এসে পৌঁছন কলকাতা পৌরনিগমের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। তাঁরা এসেই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির চারপাশের মাপজোক করা শুরু করে দেন।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু কিছু সম্পত্তির ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে বা প্ল্যান বহির্ভূত অতিরিক্ত বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে বলে পুর প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল। এমনটাই খবর কলকাতা পুরসভা সূত্রে। এদিকে কলকাতা পুরসভা সূত্রে এও জানা গেছে, সম্প্রতি পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেকের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক ও তাঁর সংস্থার একাধিক সম্পত্তিতে ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও নির্মাণ সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। অভিষেকের আত্মীয়দের মিলিয়ে মোট ১৭টি সম্পত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয় বলে সূত্রের খবর। পুরসভার অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই এই তৎপরতা শুরু হয়। পুরসভার তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান , নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় শংসাপত্র এবং যদি কোনও অতিরিক্ত নির্মাণ হয়ে থাকে, তবে তার আইনি অনুমতির নথিপত্র অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। জানা গেছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে এবং পরিমাপ করে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে, তারপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগেই ১৮৮ এ হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ ভবনেও একই নিয়মে মাপজোক সারেন পুর আধিকারিকরা।
এদিকে ১২১, কালীঘাট রোড অর্থাৎ পটুয়াপাড়ার এই বাড়িতেই আপাতত অভিষেক থাকছেন সপরিবারে। এদিন অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির আউটসাইড মাপ, লেনের মাপও নিতে দেখা যায় পুর আধিকারিকদের। পাশাপাশি অভিষেকের বাড়ির পিছন দিকের সীমানা প্রাচীরে যে কালো রঙের গেট রয়েছে, সেটি ফিতে দিয়ে মেপে দেখেন পুরসভার কর্মীরা। ফুটপাথ থেকে ওই ভবনের দূরত্ব কতটা রয়েছে, কতটা জায়গা ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা-ও মেপে দেখেন তাঁরা। অভিষেকের ওই বাড়ির পাশে একটি সেলুন রয়েছে। সেটির ভিতরে গিয়েও মাপজোক করেন পুরসভার কর্মীরা। ভবনের নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছে কি না, মূলত সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয় মঙ্গলবার। পুরসভা কর্মীদের সঙ্গে কিছু নকশাও ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, তা বিল্ডিং প্ল্যানের অংশ। অভিষেকের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে সেই নকশাও মিলিয়ে দেখেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক জানান, সমস্ত মাপ করে একটি রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ১৮৮ এ হরিশ মুখার্জি রোডে শান্তিনিকেতনে মাপ নেওয়া হয়েছে।
আর এতেই প্রশ্ন ওঠে, অবৈধ অংশের হদিশ পেলে মঙ্গলবারই তা ভেঙে ফেলা হবে কি না তা নিয়েও। যদিও এনিয়ে সাংবাদিকদের সামনে মুখে কুলুপ আঁটেন কলকাতা পুরসভার আবাসন বিভাগের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, সেই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীভবনে, সিআইডির দপ্তরে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে পুর ইঞ্জিনিয়ারদের যাওয়া এবং এভাবে মাপজোক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, আগেই কলকাতা পৌরনিগমের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিষেকের বাড়ির অন্দরমহলের নতুন স্কেচ-সহ এলিভিশন কপি জমা দিতে হবে। অভিষেকের সম্পত্তিতে নির্মাণ নকশা নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বাড়ির ভিতরে নতুন করে কী কী অংশ তৈরি হয়েছে, সেটা এলিভিশন কপিতে এঁকে জমা করতে হবে, সে নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে পুরসভার নোটিসের প্রেক্ষিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, কলকাতার ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি বৈধ ভাবে নির্মিত।










