বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন করে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর

443e2a7d-be9e-4ec9-a279-d45fc7869c7b

টেকসই পর্যটন ও পরিবেশগত সংরক্ষণের মাধ্যমে ‘ব্লু কার্বন অর্থনীতি’র প্রসারের ওপর জোর


রায়চক (দক্ষিণ ২৪ পরগনা):
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রবিবার ‘বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস ২০২৬’ পালন করল।
রায়চকের তাজ গঙ্গা কুটিরে আয়োজিত এই বিশেষ রাজ্য-স্তরের অনুষ্ঠানে নীতি-নির্ধারক, প্রশাসক, পরিবেশবিদ, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখার সময় পর্যটন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ বলেন যে, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—উভয়কেই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
সুন্দরবনকে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে তিনি উল্লেখ করেন যে, ম্যানগ্রোভ হলো প্রকৃতির অন্যতম কার্যকর কার্বন শোষক এবং সামুদ্রিক ঝড় ও উপকূলীয় ভাঙনের বিরুদ্ধে আমাদের সুরক্ষার প্রথম প্রতিরক্ষা-বলয়। তিনি ভবিষ্যতে সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবস্থাকে ‘উচ্চ-মূল্য ও স্বল্প-প্রভাব’ মডেলে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই উপলক্ষে, রাজ্য সরকার সুন্দরবনের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের কোনো ক্ষতি না করেই পর্যটন পরিকাঠামো, অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে একটি সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে, পর্যটকদের সরাসরি ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণের সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার আওতায় সুন্দরবনে আসা প্রত্যেক পর্যটককে অন্তত একটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণে উৎসাহিত করা হবে।
এ ছাড়াও, ভারত সরকারের ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ (একটি রাজ্য, একটি বিশ্বমানের গন্তব্য) উদ্যোগের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও সুন্দরবনকে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, নদী-কেন্দ্রিক পর্যটনকে উৎসাহিত করা এবং পরিবেশ-বান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কলকাতা থেকে সরাসরি সুন্দরবন পর্যন্ত জলপথ পরিবহন পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
উপকূলীয় সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত পদ্ধতির নিদর্শন হিসেবে, উত্তর ২৪ পরগনার নেবুখালিতেও একই সময়ে ম্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়; রায়চকে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের সাথে এটিকে লাইভ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠান চলাকালীন, ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ও পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য ‘ম্যানগ্রোভ ম্যান’ হিসেবে পরিচিত উমাশঙ্কর মণ্ডলকে—সেইসাথে অজন্তা দে, অনিল মিস্ত্রি, ড. অনামিত্র অনুরাগ দণ্ডা এবং ‘গ্রিন ব্রিগেড’ সংগঠনকে—সম্মাননা জানানো হয়। পর্যটন বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুণ কুমার রাইয়ের স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং সুন্দরবন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা-সহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করেন।

About Author

Advertisement