বিক্ষোভের মুখে ঋতব্রত-তৃণমূল

IMG-20260707-WA0099(1)

নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত যখন চলছে, সেই সময়েই আবার তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। এই আবহে মঙ্গলবার নির্যাতিতার বাড়িতে যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। সেখানে প্রথমে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। তাঁদের ‘গদ্দার, বেইমান, বালিশচাটা’ বলে স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতে যান। পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথাও বলেন। ঋতব্রতদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। অন্য দিকে, এনডিএ জোটকে সমর্থনকারী তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ দুই সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারও বারুইপুরে যান। যাদবপুরের সাংসদ সায়নীকে দেখে স্লোগান ওঠে। সায়নীকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেন কয়েক জন। সায়নী বলেন, ‘আমরা চাইব, সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করুক। মুখ্যমন্ত্রী সেই আশ্বাসও দিয়েছেন।’ দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন সায়নী। বলেন, ‘আমরা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট চাইছি।’ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মৃতার বাবা-মাকে সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁরা। তিনি আরও জানান, রাজ্যে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেছে। দৃঢ় পদক্ষেপ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। ঋতব্রত বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আগেও কথা হয়েছে। আমরা বিচার চেয়েছি।’’ এদিন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বারুইপুরে যান। দেখা করেন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘কোন ধর্মের, কোন বয়সের, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। একজন মেয়ের উপর অত্যাচার হয়েছে, সেটাই শেষ কথা। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। সর্বোচ্চ শাস্তি হবে অভিযুক্তদের।’ লকেট বলেন, ‘‘পরিবার তদন্তপ্রক্রিয়ায় পুরোপুরি ভরসা রেখেছে। আরজি কর, কামদুনির মতো পরিস্থিতি দেখতে হবে না। পরিবর্তনের বাংলা দেখতে পাবেন। এই বাচ্চা মেয়েটি বিচার পাবে। আগামী দিনে যাতে কোনও মহিলার দিকে নোংরা ভাবে কেউ তাকাতে না পারে, তার ব্যবস্থা করবে এই সরকার।’’ অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘বাবা-মায়ের পাশে সম্পূর্ণ ভাবে আমাদের সরকার আছে।’’ ভাঙড়ের বিধায়ক, আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকিও বারুইপুরে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে যান। তিনি বিজেপির ‘ভরসা ইন, ভয় আউট’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘সরকারে আসার দু’মাস পার হতে না হতেই পাঁচ-সাতটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। সেই একই ভাবে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে। তৃণমূলের কায়দায় বিজেপি নেতারা গিয়ে অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন! অতি সত্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তি দেওয়া দরকার। আর মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে বড় বড় কথা বলা বিজেপি এ বার দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করুক।’’ তিনি এ-ও জানান, জনরোষ তৈরি হয়েছে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জন্যই। সেই দায় তাদেরই নিতে হবে। এখন তো তৃণমূল আমল নয়, তা হলে এখনও পুলিশের বিরুদ্ধে কেন এমন অভিযোগ উঠছে।

About Author

Advertisement