থানায় অপরাধীদের আত্মসমর্পণ: প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

PTI04_19_2026_000057B

কলকাতা: ফের রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাতের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় এক জনসভা থেকে তিনি দুষ্কৃতীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কান খুলে শুনে রাখুন, এটাই শেষ সুযোগ— অবিলম্বে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। ৪ মে-র পর কেউ বাঁচতে পারবেন না।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দাবি করেন, “নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টিই ক্ষমতায় আসতে চলেছে। ৪ মে-র পর এই রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টিরই সরকার গঠন হবে।” প্রখর গরম উপেক্ষা করে কয়েক লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি নববর্ষ ও অক্ষয় তৃতীয়ার শুভেচ্ছা জানান এবং বিষ্ণুপুরের মদনমোহন, শ্যামরাই ও এক্তেশ্বর ধামের মহাদেবকে স্মরণ করেন।
বাঁকুড়ার পানীয় জলের সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা সিন্ডিকেট গড়ে নলকূপের জল পর্যন্ত লুঠ করছে। তিনি বলেন, “বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টির মুখ্যমন্ত্রী হলে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে প্রতিটি বাড়িতে জল পৌঁছে দেবে।”
শিল্পের অভাব প্রসঙ্গে তিনি বড়জোড়া ও রাজ্যের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সিন্ডিকেট ও দুষ্কৃতী রাজ চললে কখনও শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, পরিবর্তনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে।
এরপর পুরুলিয়ায় আরেকটি সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “উন্নয়নবিরোধী সরকার রেলের বহু প্রকল্প আটকে রেখেছে। প্রতি বুথে তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “১৫ বছরের দুর্নীতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে।”
আদিবাসী উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, আদিবাসীদের জন্য আলাদা মন্ত্রক গঠন, বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। একইসঙ্গে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আদিবাসী এলাকায় উন্নয়ন থমকে রয়েছে, রাস্তা, জল ও শিক্ষা ব্যবস্থা বেহাল অবস্থায়।
মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে, গর্ভবতী মহিলারা পাবেন ২১ হাজার টাকার সহায়তা এবং শিক্ষার জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৭৫ লক্ষ মহিলার বার্ষিক আয় এক লক্ষ টাকার বেশি করার লক্ষ্যমাত্রার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

About Author

Advertisement