তৃণমূলকে ২১ জুলাইয়ে সভা করতে ‘না’ পুলিশ প্রশাসনের

1-55

ধর্মতলায় কালীঘাট বা নব কোনও তৃণমূলকেই সভার ‘অনুমতি নয়’। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভা করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন নগরপাল।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের মতো এ বারও ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ পালন করতে চেয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। সঙ্গে জুড়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীও। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা আয়োজনের আবেদন জানিয়েছিল উভয় পক্ষ। কিন্তু এই অনুমতি দিতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, চলতি বছরে তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া বিভাজনের জেরে ২১ জুলাইকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই প্রবল স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। কে কোথায় সভা করবে, কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচি তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল চাপানউতোর। এরপর গত রবিবার সেই টানাপড়েন প্রকাশ্যে আসে। কালীঘাট তৃণমূলের কয়েকজন নেতা ও কর্মী ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে গিয়ে রীতিমতো ফিতে দিয়ে মাপজোক শুরু করেন। সভামঞ্চ কোথায় হবে, কী ভাবে কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হবে, তা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ব্যস্ত রাস্তায় এ ভাবে মাপজোক করাকে কেন্দ্র করে যান চলাচলে বিঘ্নের অভিযোগ ওঠে।
সোমবার বিধানসভায় এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কী ভাবে ব্যস্ত রাস্তার উপর এ ধরনের কাজ করা হল তা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এদিকে অভিযোগ উঠছিল, রাস্তা আটকে মাপজোকের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দোলা সেন, কুণাল ঘোষ-সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। আর তার ঠিক পরের দিনই লালবাজার জানিয়ে দেয়, ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি দেওয়া হবে না।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, কয়েক বছর আগের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে ফের আদালতের নজরে আসে এই কর্মসূচি। অভিযোগ উঠেছিল, ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা করা হয়েছিল। সেই মামলায় আদালতের দ্বারস্থ হন এক আবেদনকারী।ওই মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ফলে চলতি বছরের সভা নিয়ে প্রশাসন এবং পুলিশের সতর্কতা আরও বেড়েছিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

About Author

Advertisement