মুর্শিদাবাদ६: পশ্চিমবঙ্গের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালীন ইভিএম ত্রুটি, ভোট শুরুর বিলম্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বড়ঞা বিধানসভার ১৮৬ নম্বর বুথে ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাঁদের অভিযোগ, ঘাসফুল প্রতীকে ভোট দিলে তা অন্য প্রতীকে, অর্থাৎ বিজেপি প্রতীকে চলে যাচ্ছে।
ইভিএম ত্রুটির কারণে বড়ঞা ব্লকের পারসালিকা মদনমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫৬ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে পড়ে। একইভাবে শমসেরগঞ্জ বিধানসভার ২১২ নম্বর বুথে ইভিএম সমস্যার কারণে ভোট শুরুতে বিলম্ব হয়। কান্দি বিধানসভার ১৩০ নম্বর বুথেও ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিরুলিয়া এলাকায় ইভিএম বিভ্রাটের অভিযোগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি কুচবিহার টাউন হাই স্কুলের ২২৯ নম্বর বুথে ইভিএম খারাপ থাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে রাজনৈতিক প্রার্থীদের ভোটদানের ছবিও সামনে এসেছে। মালদহের মালতীপুর আসনের কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর ভোট দেন। কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
শিলিগুড়ির ১৭৩ নম্বর বুথে ভোট দেন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাতারাতি বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
খড়গপুরের সেরোসা স্টেডিয়ামের ২৬৩ নম্বর বুথে ভোট দেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ এবং প্রয়োজন ছাড়া তিনি কোনো এলাকায় যাচ্ছেন না।
দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার ফাইন আর্টস ক্লাবের ৪৮ নম্বর বুথে ভোট দেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ ঝাঁ। অন্যদিকে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল এলআইসি অফিসের ২৪৩ নম্বর বুথে ভোট দেন। তিনি এলাকায় লোডশেডিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ভোটের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটানো হতে পারে।
নন্দীগ্রামের ৭৯ নম্বর বুথে ভোট দেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পুজো দিয়ে ভোট দিতে যান এবং বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানান।
নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর শম্ভুনাথ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ নম্বর বুথে ভোট দেন এবং নিজেও বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করেন।
একাধিক অভিযোগ ও ইভিএম বিভ্রাটের ঘটনায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।









