কাঠমান্ডু: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কালাপানি ও লিপুলেখ অঞ্চল নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলমান সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই নেপাল সরকার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে স্বীকার করেছেন যে, ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক সুগৌলি চুক্তির (যা নেপাল ও তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ করেছিল) মূল সরকারি নথিটি তাদের কাছে আছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
নেপালি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এ এমপি নিশকাল রাই-এর উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানাল জানান যে, যদিও কিছু ঐতিহাসিক চুক্তিসংক্রান্ত নথিপত্র জাতীয় মহাফেজখানায় সংরক্ষিত রয়েছে, তবুও সেগুলোই মূল ও দাপ্তরিক নথি কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য যে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহও সম্প্রতি সুগৌলি চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ব্রিটেন থেকে নথিপত্র সংগ্রহের কথা বলেছিলেন; তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য নেপালের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে মূল নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০১৬ সালে ভারত-নেপাল সম্পর্ক পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গোষ্ঠী’ (ইপিজি) যখন ১৯৫০ সালের শান্তি ও মৈত্রী চুক্তিটি পর্যালোচনা শুরু করেছিল, তখনও নেপাল সরকার সেই মূল নথিপত্রগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিল।
তৎকালীন নেপালি প্রধানমন্ত্রী মোহন শমসের এবং ভারতের রাষ্ট্রদূত চন্দ্রেশ্বর প্রসাদ নারায়ণ সিং-এর স্বাক্ষরিত মূল কপিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি; ফলে সরকার ‘ভেখ বাহাদুর থাপা কমিটি’-র কাছে কেবল একটি অনুলিপি হস্তান্তর করেছিল।
পরবর্তীতে, ২০১৯ সালেও বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়। সে সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গ্যওয়ালি স্বীকার করেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উভয় চুক্তির অনুলিপি থাকলেও সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। গ্যওয়ালি আরও জানান যে, নেপালে মূল নথিপত্র না থাকায় ভারত ও যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) বিভিন্ন আর্কাইভ ও জাদুঘরে ঐতিহাসিক মানচিত্র ও নথিপত্র খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে নেপালে একটি সংসদীয় তদন্তও পরিচালনা করা হয়। গত ২২ জুলাই জাতীয় পরিষদের ‘ডেলিগেটেড লেজিসলেশন অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কমিটি’ তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে যে, সুগৌলি সন্ধি এবং ১৯৫০ সালের শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি—উভয়েরই মূল কপি নেপালে আর নেই। কমিটি সম্ভাব্য সব স্থান—যার মধ্যে রয়েছে নারায়ণহিতি প্রাসাদ জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, আইন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গ্রন্থাগারসমূহ—পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেছিল, কিন্তু মূল ঐতিহাসিক নথিপত্রের কোনো হদিসই খুঁজে পায়নি।









