ভারত-নেপাল বাণিজ্যে এক নতুন অধ্যায়
কলকাতা: ভারত ও নেপালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং ট্রানজিট বা পরিবহন সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম ভারতের কলকাতা বন্দরের সঙ্গে নেপালের বিরাটনগর ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্টের (আইসিপি) সরাসরি সংযোগকারী একটি রেল-ভিত্তিক পণ্য পরিবহন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব নেপালের ট্রানজিট ও বাণিজ্য সংক্রান্ত লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই ঐতিহাসিক পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সংশোধিত নিয়মাবলি ও পুরনো ব্যবস্থা
নেপাল-ভারত ট্রানজিট চুক্তির আওতায়, তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে (সড়ক, রেল বা জলপথে) নেপালের সীমান্তে পরিবহন করা হয়। আগে এই চুক্তির অধীনে রেলপথে আসা পণ্য কেবল বীরগঞ্জ ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) পর্যন্ত পৌঁছানোর অনুমতি পেত; ফলে বিরাটনগর বা অন্যান্য অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত পণ্যগুলো বীরগঞ্জে নামিয়ে পুনরায় ট্রাকে বোঝাই করতে হতো।
তবে, গত বছরের নভেম্বরে ভারতের ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস’ (সিবিআইসি) ‘ইলেকট্রনিক কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেম’ (ইসিটিএস)-এর বিধিমালার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সংশোধনী আনে।
এই সংশোধনীর ফলে কলকাতা, হলদিয়া ও বিশাখাপত্তনম বন্দর থেকে নেপালের অন্যান্য সীমান্তবর্তী এলাকায় সরাসরি রেলপথে পণ্য পরিবহনের পথ সুগম হয় এবং এর মাধ্যমে বিরাটনগর পর্যন্ত সরাসরি রেল পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়ে ওঠে।
বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা
এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় নেপালের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় স্বস্তি মিলবে লজিস্টিকস বা পরিবহন ব্যয়ের দিক থেকে। সড়কপথের ওপর নির্ভর করা কিংবা বারবার পণ্য স্থানান্তরের তুলনায় সরাসরি রেলপথে পণ্য পরিবহন অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, কলকাতা বা বিশাখাপত্তনম থেকে সরাসরি বিরাটনগর আইসিপি-তে পণ্য পরিবহনের ফলে লজিস্টিকস ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে—প্রায় ১৫% থেকে ২০%—হ্রাস পাবে। এর আগে, বীরগঞ্জে পণ্য নামিয়ে পুনরায় ট্রাকে তোলার প্রক্রিয়ার ফলে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ—উভয়েরই উল্লেখযোগ্য অপচয় হতো। এখন পণ্যবাহী ট্রেন সরাসরি বিরাটনগর কাস্টমস পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছানোর ফলে কেবল পণ্য পরিবহনের খরচই কমবে না, বরং সময়েরও উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে—যার সুফল সরাসরি নেপালি বাজার ও ভোক্তারা পাবেন।










