কাঠমান্ডু(নেত্র বিক্রম বিমলী): নেপালের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (এমালে)-র অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের ওপর একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রাখা সভাপতি কেপি শর্মা ওলির ওপর এবার পদত্যাগের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। আশ্চর্যের বিষয়, অতীতে যাঁরা ওলির প্রধান সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁরাই এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে সরব হয়ে উঠেছেন। একইসঙ্গে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের পথও কার্যত প্রশস্ত হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের নেতৃত্ব হস্তান্তর নিয়ে উপসভাপতি বিষ্ণু পৌডেল এবং মহাসচিব শঙ্কর পোখরেলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমঝোতা তৈরি হয়েছে। যদিও পৌডেল এ বিষয়ে প্রকাশ্যে স্পষ্ট মন্তব্য করেননি, তবে পরে কথা বলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ওলি সরকারের অন্যতম প্রবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত উপসভাপতি পৃথ্বীসুব্বা গুরুংও পোখরায় দলের একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে নেতৃত্ব পরিবর্তনকে সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর মতে, শুধুমাত্র মুখ বদলালেই হবে না, সংগঠনের কার্যপদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
এমালে নেতা কর্ণ থাপা বলেন, “ঐতিহাসিক ব্যর্থতা এবং দলের বর্তমান লজ্জাজনক পরিস্থিতির দায় প্রধান নেতা হিসেবেই ওলিকে নিতে হবে। কোনও অজুহাতে তাঁর বিদায় রোধ করা যাবে না।”
এদিকে, এমালে সচিবালয়ের অষ্টম বৈঠকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীর দলীয় সদস্যপদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের সচিব পদ্মা আর্যাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে যিনি ভাণ্ডারীর প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করতেন, সেই ওলিই এখন নিজের ওপর বাড়তে থাকা চাপ সামাল দিতে তাঁকে সামনে আনছেন।
মদন-আশ্রিত স্মৃতি দিবসে ভাণ্ডারীকে প্রধান অতিথি করা এবং সম্প্রতি ওলি-ভাণ্ডারীর বৈঠক এমালের অভ্যন্তরে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও বিরোধী শিবিরের নেতাদের দাবি, ভাণ্ডারীর প্রত্যাবর্তনে ওলির পদত্যাগের দাবি থামবে না।
অন্যদিকে, নিজেদের দলেও নেতৃত্ব ছাড়ার চাপের মুখে থাকা মাওবাদী কেন্দ্রের সভাপতি পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’ এবং এমালে সভাপতি ওলির মধ্যে আবারও রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে বৈঠকও হয়েছে এবং প্রচণ্ড ধারাবাহিকভাবে বামপন্থী ঐক্যের পক্ষে সওয়াল করছেন।
তবে মাওবাদী কেন্দ্রের একাংশের মতে, এটি রাজনৈতিক দুর্বলতা আড়াল করার কৌশল মাত্র। মাওবাদী নেতা হরিবোল গজুরেলের বক্তব্য, “ব্যর্থ নেতৃত্বকে আত্মসমালোচনা ও অনুশোচনার সঙ্গে পদত্যাগ করতে হবে, তবেই প্রকৃত সমাধান সম্ভব।”
অন্যদিকে এমালে নেতা কর্ণ থাপা বলেন, “শীর্ষ নেতাদের মাথা জোড়া দিয়ে গড়া অর্থহীন ঐক্য অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা কোনও কাজে আসবে না।”
এমালের অভ্যন্তরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ধীরে ধীরে ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন নেপালের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।










