নয়াদিল্লি: এশিয়ান গেমসের আগে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় ভারোত্তোলন দল। চোটের কারণে এই মহাদেশীয় গেমস থেকে ছিটকে গেলেন কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্যপদক জয়ী ঋষিকান্ত সিং। এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতীয় দলে নির্বাচিত একমাত্র পুরুষ ভারোত্তোলক ছিলেন তিনিই। মণিপুরের ঋষিকান্ত ৬০ কেজি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। হাঁটুর চোটের কারণে তিনি এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে পড়েছেন।
জুলাই মাসে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের প্রায় এক সপ্তাহ আগে ঋষিকান্তের হাঁটুতে চোট লাগে। চোট থাকা সত্ত্বেও তিনি সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং রৌপ্যপদক জয় করেন।
ভারতীয় ভারোত্তোলন ফেডারেশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, “আমরা আশা করেছিলাম যে এশিয়ান গেমসের আগেই ঋষিকান্ত সুস্থ হয়ে উঠবেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি। পরীক্ষার পর তাঁকে প্রায় এক মাস পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ঋষিকান্তের সরে দাঁড়ানোর পর, এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতীয় ভারোত্তোলন দলে এখন মাত্র চারজন নারী অ্যাথলেট রয়েছেন। টোকিও অলিম্পিকে রৌপ্যপদক জয়ী মীরাবাই চানু ৪৯ কেজি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জ্ঞানেশ্বরী যাদব (৫৩ কেজি), নিরুপমা দেবী (৬১ কেজি) এবং হরজিন্দর কৌর (৬৯ কেজি) তাঁদের নিজ নিজ ওজন শ্রেণিতে অংশ নেবেন।
ঋষিকান্তের সরে দাঁড়ানো ভারতীয় পুরুষ দলের জন্য বড় এক ধাক্কা। এখন দলটি ভালো ফলাফলের জন্য নারী ভারোত্তোলকদের ওপরই তাকিয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ৫৫ কেজি বিভাগে ঋষিকান্ত তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর ওজন শ্রেণি পরিবর্তন করেন এবং ৬০/৬১ কেজি বিভাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২৪ সালের জাতীয় ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ৬১ কেজি বিভাগের ‘স্নাচ’ ইভেন্টে ১২৪ কেজি ওজন তুলে জাতীয় রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে, তিনি স্ন্যাচে ১২০ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৫১ কেজি-সর্বমোট ২৭১ কেজি ওজন তুলে ২০২৫ সালের কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জয় করেন। ২৭১ কেজি ওজনের এই উত্তোলনটি কেবল একটি নতুন ভারতীয় জাতীয় রেকর্ডই গড়েনি, বরং টানা দ্বিতীয়বারের মতো কমনওয়েলথ গেমসে তাঁর অংশগ্রহণের যোগ্যতাও নিশ্চিত করেছে।





