কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে একাধিক কড়া নির্দেশ জারি করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি রাজ্য সচিবালয় নবান্নে যান এবং শীর্ষ আমলা ও বিভিন্ন দফতরের সচিবদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে তিনি আধিকারিকদের রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে সততার সঙ্গে কাজ করার এবং রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে স্পষ্ট মতামত দেওয়ার নির্দেশ দেন।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রতিটি বিষয়ে শুধুমাত্র সম্মতি জানানো বন্ধ করতে হবে এবং রাজ্যের স্বার্থে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে হবে। তিনি আধিকারিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, শুধু তাঁকে খুশি করার জন্য কাজ করার কোনও প্রয়োজন নেই। যারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন, সরকার সবসময় তাঁদের পাশে থাকবে। প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্প, হোর্ডিং বা ফলকে “মুখ্যমন্ত্রীর প্রেরণায়” ধরনের বাক্য ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। তাঁর বক্তব্য, সরকারি কাজ মানুষের জন্য, কোনও ব্যক্তির ভাবমূর্তি গড়ার জন্য নয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের সেই সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন, যেগুলি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হয় আটকে ছিল অথবা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি সরকারি অর্থ দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় খরচের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখার কথাও বলেন।এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, পুলিশ মহাপরিচালক সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা। জেলা প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও নিয়মভিত্তিকভাবে পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।নবান্নে পৌঁছানোর পর কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পূর্ববর্তী প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে প্রথম দিন থেকেই তাঁকে সক্রিয় ও দৃঢ় অবস্থানে দেখা গেছে।










