অনুপ্রবেশ ইস্যুতে হুশিয়ারি শাহের

FB_IMG_1776000889457

কলকাতাকে অপমান, পাল্টা জবাব তৃনমূলের

তুষার পাটোয়ারী

রাজ্যে প্রথমত নির্বাচনের আগের দিন একগুচ্ছ প্রচার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তরের দমদমে জনসভা থেকে দক্ষিণের মেগা রোড শো’এ অংশগ্রহণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন সোনারপুর মোড় থেকে বৈকন্ঠপুর পর্যন্ত সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলী সমর্থনে রোড শো এ নামেন তিনি। সুসজ্জিত রোড শো’য়ে রাস্তার দুদিকে প্রচুর মানুষ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তাকে। তিনি বলেন “বিজেপি যেখানে যেখানে ক্ষমতায় এসেছে মহিলাদের সুরক্ষার কথা ভেবেছে। আপনারা বিজেপির সরকার গড়ে দিন, প্রত্যেক দিদির অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পাঠাব আমরা।” তিনি আরও বলেন, ‘‘গঙ্গাসাগর থেকে দার্জিলিং, কোনও জায়গায় সরকারি বাসে মহিলাদের কোনও ভাড়া দিতে হবে না।’’ এদিকে উত্তর দমদমে নির্বাচনী সভা থেকে সেই অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে সরব হন তিনি। তিনি বলেন, কলকাতা শহর বসতির শহরে পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, বাম ও তৃণমূলের আমলে গোটা শহর বসতির শহর হয়ে গিয়েছে। এই শহরকে বসতিমুক্ত করার কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী। বরং শহরের বসতিগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করতে চান মমতা। এছাড়াও শাহের হুঁশিয়ারি, ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা বেরোলে সমস্যায় পড়বেন। কলকাতা নিয়ে অমিত শাহের মন্তব্যে তৃণমূল জানিয়েছে, কলকাতা এই অপমান কখনও ভুলবে না। সোশাল মিডিয়ায় তৃণমূল লিখেছে, “অমিত শাহ, কলকাতা হল সিটি অফ জয়, ভালোবাসার শহর, ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী, গেটওয়ে অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া, আর ভারতের সবচেয়ে নিরাপদতম শহর। আপনি কলকাতাকে বস্তির শহর বলে যে অপমানটা করলেন, তা কলকাতা কখনও ভুলবে না। উত্তর দেওয়া হবে গণতান্ত্রিকভাবে, ঐক্যের মাধ্যমে, ভোটের মাধ্যমে। আপনারা বাংলা বিরোধীই। এটাই আপনাদের জন্য সঠিক বিশেষণ। অমিত শাহের অভিযোগ, এখানকার পুরসভা দেউলিয়া হওয়ার আগের মুহূর্তে রয়েছে। পুরসভার গাফিলতির কারণে শহরে একাধিক নোংরা জলের ঝিল তৈরি হয়েছে। মোতিঝিলও অসুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কারও কিছু যায় আসে না। ৫ মের পর দমদমের পুরনো গৌরব ফেরানো হবে। এদিন অমিত ফের একবার অনুপ্রবেশ, নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে তোপ দেগেছেন। রাজ্যের শিল্পের সম্ভাবনা নিয়েও শাসকদলকে আক্রমণ করেছে অমিশ শাহ। তিনি জানিয়েছেন, আজ এক এক করে শিল্প পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ৬ হাজার প্রতিষ্ঠান রাজ্য ছেড়ে দিয়েছে। কারণ মমতার কাটমানির লোকেরা শিল্পের পিছনে উঠেপড়ে লেগেছে। শাহের হুঁশিয়ারি, ২৯ তারিখ ভোটের দিন যেন তৃণমূলের গুন্ডারা রাস্তায় বেরোবেন না। বেরোলে সমস্যায় পড়তে হবে। এদিনের মঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে কংগ্রেসকেও তোপ দেগেছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে ৩৭০ ধারা ও মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীকে ‘রাহুল বাবা’ বলে তোপ দেগে অমিত শাহ বলেন, অসমে কংগ্রেসের সবথেকে বড় হার হবে। তামিলনাড়ু ও পণ্ডিচেরীতে ডবল ডিজিট পেরোতে পারবে না। আর পশ্চিমবঙ্গে তো খাতাই খুলতে পারবে না তারা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিজেপি কলকাতা ও আশপাশের এলাকার বিকাশের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ হবে। মেট্রোর বিস্তার ৩ গুণ হবে। তিনি ফের একবার অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য হল, তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো। কিন্তু তাঁর সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় জন্মানো, বাংলায় কথা বলা, বাংলা মিডিয়ামে পড়া কেউই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এছাড়াও সপ্তগ্রামের সভায় শাহ বলেন, “বিজেপি যেখানে যেখানে ক্ষমতায় এসেছে মহিলাদের সুরক্ষার কথা ভেবেছে। আপনারা বিজেপির সরকার গড়ে দিন, প্রত্যেক দিদির অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পাঠাব আমরা।” তিনি আরও বলেন, ‘‘গঙ্গাসাগর থেকে দার্জিলিং, কোনও জায়গায় সরকারি বাসে মহিলাদের কোনও ভাড়া দিতে হবে না।’’ মহিলা বিল বিরোধিতা করা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন শাহ। সপ্তগ্রামের সভা থেকে শাহ বলেন, ‘‘মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আটকে রেখেছেন মমতাদিদি। বেশি দিন রুখে রাখতে পারবেন না। আপনার যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি, বিজেপি-কে সরকারে আনুন, সরকারি চাকরিতে মা-বোনদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার কাজ করব আমরা।’’ সপ্তগ্রামের সভা থেকেও হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘হুমায়ুন বলছেন এখানে বাবরি মসজিদ বানাবে। ও মমতার চেলা। আমরা বাবরি মসজিদ বানাতে দেব না।’’ শাহ বলেন, ‘‘কারও চার বিয়ে করার উচিত? জানেন তো কারা চার বিয়ে করেন? চিন্তা করবেন না। ৫ তারিখের পর এখানে ইউসিসি এনে চার বিয়ে করা বন্ধ করে দেব।’’ শাহ বলেন, “তরুণদের প্রতি বছর ১ লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার কাজও বিজেপি সরকারই করবে।’’ শাহের অভিযোগ, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে অনেক দুর্নীতি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। উনি ভাবেন কিছু হবে না। মমতাদি, ৫ তারিখ এখানে বিজেপি সরকার আসবে। এক এক পয়সা আমাদের যুবকদের, মহিলাদের ফেরত দিতে হবে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বিরুদ্ধে। তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন খড়্গে। অভিযোগ, সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে চিহ্নিত করেন। তা উল্লেখ করে সপ্তগ্রামের সভা থেকে শাহ বলেন, ‘‘মমতা এবং মনমোহনের সরকার সন্ত্রাসবাদীদের বিরিয়ানি খাওয়াত। মোদীজির সরকার এসেছে। উরিতে হামলা হল, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে। পুলওয়ামাতে হামলার জবাবে এয়ার স্ট্রাইক হয়েছে। আর পহেলগাঁওয়ে হামলার পর অপারেশন সিঁদুর করে পাকিস্তানে গিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের মারা হয়েছে। মোদীজি, দেশে সন্ত্রাসবাদকে শেষ করেছেন। মাওবাদীমুক্ত করেছেন। বিজেপি সরকার এই দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করবে।’’ তার পরেই শাহ বলেন, ‘‘খড়্গেজি, তৃণমূলের সহযোগী বলছেন মোদীজি সন্ত্রাসবাদী। আরে আপনি লজ্জা করুন, লজ্জা। যিনি সন্ত্রাসবাদকে শেষ করতে নিজের জীবন দিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে আপনি সন্ত্রাসবাদ বলছেন। জনতা পুরো হিসেবনিকেশ করবে।’’

About Author

Advertisement