‘আসল’ তৃণমূল কারা, আজ নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রতরা

Screenshot_20260702_024359_Google

ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পরেই ভেঙে খান খান তৃণমূল। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করে পরিষদীয় দল গঠন করেছেন। তাঁরাই আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের সরিয়ে দলের খোলনলচে বদলে নতুনভাবে সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়েছেন। অন্যদিকে আবার ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করে আসছে। এই আবহে আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন ঋতব্রতরা। তাঁরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আসল তৃণমূল কে, তা আজই নির্ধারিত হতে পারে নির্বাচন কমিশনে। আজ বেলা ১২টায় দিল্লির নির্বাচন সদনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রতিনিধিদের দেখা করতে বলা হয়েছে। সেইমতো ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ১০ সদস্য ঋতব্রতে‌র নেতৃত্বে বুধবার বিকেলে দিল্লি রওনা হন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমাদের আজকেই জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দেখা করতে হবে। তাই আমরা যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন কেন ডেকেছে তা প্রকাশ্যে বলা উচিত নয়।’’ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা ইতিমধ্যেই কলকাতার সিইও অফিসের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ বিধায়ক তথা ‘আসল তৃণমূলে’র গঠন করা কমিটির সদস্যরা তাঁদের তথাকথিত ‘বিশেষ অধিবেশনে’র নথি জমা দিয়ে এসেছেন। দাবি করে এসেছেন, আসল তৃণমূল তাঁরাই। দলের কর্মসমিতিও নতুন করে গঠিত হয়েছে। এরপর দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময়ও চেয়েছিলেন তাঁরা। সেইমতোই নির্বাচন কমিশন তাদের সময় দিয়েছে। সূত্রের খবর, ঋতব্রতপন্থীদের সঙ্গে কথা বলার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাইবে। প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন নিউ টাউনের বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠক করেন ঋতব্রতরা। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে ‘তৃণমূলের’ জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেন তারা। ২৩ জুন ঋতব্রতের সঙ্গে সিইও দফতরে গিয়েছিলেন তাঁদের তৈরি তৃণমূল কর্মসমিতির চেয়ারম্যান অরূপ রায়, সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সাহা এবং কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান। সূত্রের খবর, নতুন তৃণমূলের কর্মসমিতির ৩০ জন সদস্য-সহ পদাধিকারীদের নাম এবং সোমবারের বৈঠকের কার্যবিবরণী সিইও দফতরে জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি, সেই নথি ইমেল করেছিলেন দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে। যদিও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলেননি ঋতব্রত বা তাঁর সঙ্গীরা। বৈঠক শেষের পর এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘আমরা কমিশনের কাছে কোনও স্মারকলিপি জমা দিতে আসিনি। কিছু নথি দিয়েছি। সেগুলি প্রকাশ্যে আনা যায় না।’’ সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেওয়া চিঠি এবং দিল্লিতে পাঠানো ইমেলে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক এবং তহবিল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চেয়েছে ঋতব্রত শিবির। যদিও তাঁরা কমিশনের কাছে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করেছেন কি না জানতে চাওয়া হলে ঋতব্রতের বলেছিলেন, ‘‘প্রতীক দাবি করব কেন ? দাবি করার কী আছে? দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। আমরাই তো তৃণমূল।’’ অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রাখতে বলেছিলেন তিনি। পরে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আবেদন জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রতের শিবির। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করে। তিনটি অ্যাকাউন্টে জমা থাকা তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা আপাতত তোলা যাবে না বলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, দলের নাম, প্রতীক ভাঁড়িয়ে কর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ঋতব্রত, সন্দীপন, অরূপ রায়, জাভেদ খান, বিপ্লব মিত্রের বিরুদ্ধে কালীঘাট এবং নিউটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেত্রী দোলা সেন। এই প্রেক্ষাপটেই আজ নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

About Author

Advertisement