হালান্ডের জোড়া গোলে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে

IMG-20260623-WA0062

নিউ ইয়র্ক: লিওনেল মেসি-কিলিয়ান এমবাপ্পেরা গোল পেলে তো আর মন ভরবে না আর্লিং হালান্ডের। গোল করবেন তিনিও। নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে যেন গোল করবেন বলেই মাঠে নামেন নরওয়ের তারকাও। মেসি-এমবাপ্পের ম্যাজিকাল রাতে তাই ভাগ বসালেন হালান্ড। দুই কিংবদন্তির মতোই ম্যাচে জোড়া গোল পেয়েছেন তিনিও। তার জোড়া গোলে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয় পেয়েছে নরওয়ে। এতে করে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে খেলবে নরওয়ে। ইরাকের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও জোড়া গোল করেন হালান্ড। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজায় নরওয়ে। কিন্তু তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্ডি। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে দুর্দান্ত এক সেভ দেন তিনি। কর্নার থেকে নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়ার গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন। তবে তার হেড জালে জড়ানোর আগে অবিশ্বাস্যভাবে পা দিয়ে সেভ করেন সেনেগালের গোলরক্ষক। ৩৭ মিনিটে নরওয়েকে লিড এনে দেওয়ার সুর্বণ সুযোগ পেয়েছিলেন মার্টিন ওডেগার্ডও। বক্সের মধ্যে আর্লিং হালান্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে জোরাল ভলি নিয়েছিলেন আর্সেনালের মিডফিল্ডার। তবে গোলবার ছেড়ে বেরিয়ে আসা গোলরক্ষক মেন্ডির শরীরে লাগায় গোল আর পাওয়া হয়নি তার। বিরতিতে যাওয়ার ২ মিনিট আগে অবশ্য নরওয়েকে আনন্দে ভাসান মার্কাস পেডারসেন। ৪৩ মিনিটে তার নেওয়া ডান পায়ের শট এবারও অনেকটা ঠেকিয়েই দিয়েছিলেন মেন্ডি। তবে বলে পাওয়ার থাকায় হাতে লাগার পরেও জালে জড়ায়। যোগ করা সময়ে ২-০ লিড পেতে পারত নরওয়ে। তবে হতাশ করে পোস্ট। ডান প্রান্ত থেকে গোলে শট নিয়েছিলেন আর্লিং হালান্ড। কিন্তু তার শট কাছের পোস্টে লাগায় গোল আর পাওয়া হয়নি। একই আক্রমণে আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সতীর্থর ক্রসে হেড নিয়েছিলেনও তিনি, তবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ধরে ফেলেন মেন্ডি। হতাশা নিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পান হালান্ড। সতীর্থ ওডেগার্ডের পাসে ৪৮ মিনিটে জোরাল শটে গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া সেনেগাল ম্যাচে ফেরে ৫৩ মিনিটে। সাদিও মানের পাস থেকে ব্যবধান কমান ইসমাইলা সার। তবে গোল ব্যবধান কমানোর আনন্দ বেশিক্ষণ উপভোগ করা হয়নি সেনেগালের। ৫৮ মিনিটে যে জোড়া গোল করেন হালান্ড। প্যাট্রিক বার্গের ক্রসকে পেনাল্টি স্পট থেকে সাইড-ফুটেড ভলিতে গোলটি করেন হালান্ড। ৮৮ মিনিটে হ্যাটট্রিকের খুব কাছে গিয়েছিলেন হালান্ড। তার শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের পায়ে ব্লক না হলে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকটা পেয়েই জেতেন তিনি। ৯০ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক সেভ দেন সেনেগালের আরেক ডিফেন্ডার পাথে চিস। অস্কার ববের জোরাল এক শট গোল লাইন থেকে হেডে বাঁচিয়ে দেন। বিপরীতে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরেকটি গোল করে ম্যাচ জমানোর ইঙ্গিত দেন সার। নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্টে বক্স থেকে গোল করে। তবে গোলটিতে ব্যবধান ৩-২ হলেও সমতায় ফেরা হয়নি সেনেগালের। এই জয়ে ফ্রান্সের পর গ্রুপ ‘আই’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। উভয় দলই টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে। তবে পয়েন্ট সমান ৬ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্স শীর্ষে। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কারা হবে সেটা নির্ভর করবে আগামী ২৭ জুনের ম্যাচে। সেদিন বোস্টনে মুখোমুখি হবে নরওয়ে-ফ্রান্স।

About Author

Advertisement