সিজেআই সূর্যকান্তের আরও একটি বড় মন্তব্য

fdafe5ad-c477-43a1-9ec6-570d1361f91a

নয়াদিল্লি: সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময়, ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্ত বুধবার এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে একটি কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন যে সাইবার অপরাধীরা সমাজের জন্য হুমকি এবং এই ধরনের লোকেরা জেলে থাকলে সমাজের মঙ্গল হবে।
সুপ্রিম কোর্টে সিজেআই সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ সাইবার জালিয়াতির একটি মামলায় এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদনের শুনানি করছিল। এই সময়, আদালত অভিযুক্তকে জামিন দিতে অস্বীকার করে।
‘সাইবার অপরাধীরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়’
শুনানির সময় সিজেআই সূর্যকান্ত বলেন যে সাইবার অপরাধীরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের গ্রেপ্তার করা কঠিন।
তিনি বলেন, “তোমরা পরজীবী, যারা বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা ঠকাও। সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের খুব কঠোর হতে হবে।”
সিজেআই আরও বলেন যে এই ধরনের অপরাধীরা কোনো একটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন যে, তদন্তকারী সংস্থাগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে, কারণ তারা এক জায়গায় অপরাধ করে অন্য রাজ্যে চলে যায়।
তিনি বলেন, “আপনি তামিলনাড়ুতে কাউকে ঠকান এবং তারপর জম্মুতে পৌঁছান। সমাজের স্বার্থেই আপনার মতো লোকেরা কারাগারে থাকুক।”
এর আগে ‘তেলাপোকা’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় তাঁর মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।
সমালোচকরা তাঁকে বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন। এরপর ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নামে একটি অনলাইন গ্রুপও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় আসে।
তবে, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত পরে তাঁর মন্তব্যটি স্পষ্ট করেন এবং বলেন যে তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই মন্তব্যটি সেইসব লোকদের লক্ষ্য করে করা হয়েছিল যারা জাল ডিগ্রির ভিত্তিতে আইন পেশায় প্রবেশ করেছিল।
সাইবার অপরাধের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কঠোর অবস্থান
সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় আদালত এ ধরনের মামলাগুলোর বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আসছে। অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ডিজিটাল প্রতারণার কারণে বহু মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ডিজিটাল অপরাধে জড়িত অভিযুক্তদের প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত অপরাধের গুরুত্ব এবং সমাজের উপর এর প্রভাবকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

About Author

Advertisement