কাঠমান্ডু: বালেন্দ্র শাহ ‘বলেন’-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রস্তাবিত ‘জাতীয় প্রতিশ্রুতি পত্র’-এর খসড়ায় নেপালকে ‘বাফার রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ছিল নেপালকে ‘বাফার রাষ্ট্র’ ধারণা থেকে সরিয়ে ‘গতিশীল সেতু’ হিসেবে উপস্থাপন করা, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই শব্দচয়ন দেশের সার্বভৌম মর্যাদার পরিপন্থী।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মাঝখানে অবস্থিত ছোট দেশগুলোকে ‘বাফার রাষ্ট্র’ বলা হয়, কিন্তু সরকারি নথিতে এমন শব্দের ব্যবহার কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে নেপাল ঐতিহাসিকভাবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং কখনোই কোনো শক্তির নিরাপত্তা ছাতার অধীনে ছিল না। তাই এ ধরনের ঔপনিবেশিক ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা ১৯৬০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বি.পি. কৈরালার বক্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে তিনি নেপালের স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনীতিতে শব্দচয়ন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত, কারণ একটি শব্দই রাষ্ট্রের অবস্থান ও ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিতর্ক ও সমালোচনা তীব্র হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে, সরকার চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি পত্রে এই বিতর্কিত শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন সরকার নেপালকে প্রতিবেশী দুই শক্তির মধ্যে নিরপেক্ষ অবস্থানের দেশ হিসেবে নয়, বরং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের সুযোগ গ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল।
তবে শব্দচয়নের এই ত্রুটির কারণে পুরো নথিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন আশা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নেপালকে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল অনুযায়ী সংশোধিত নথি প্রকাশ করা হবে।










