কাঠমান্ডু: প্রতিনিধিসভার নতুন বিধির প্রস্তাবিত খসড়া ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই খসড়ায় সাংসদদের প্রচলিত ফৌজদারি আইনের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় স্বাধীন পার্টির সাংসদ গণেশ পরাজুলীর নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রণীত এই খসড়ায় বলা হয়েছে, সংসদ ও তার সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিধিই ‘বিশেষ আইন’ হিসেবে গণ্য হবে, অন্যান্য প্রচলিত আইনে যা-ই থাকুক না কেন।
এই বিধির মাধ্যমে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা সাংসদদের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার পথ তৈরি করা হয়েছে বলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিধান বিশেষ করে জাতীয় স্বাধীন পার্টির সভাপতি রবি লামিছানে-র মতো নেতাদের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে, যিনি বর্তমানে অবৈধ অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত মামলার মুখোমুখি। প্রচলিত আইনে দুর্নীতি বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের মামলা দায়ের হলেই সরকারি কর্মচারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরখাস্ত হন। কিন্তু প্রস্তাবিত বিধিতে বলা হয়েছে, আদালত যদি সাংসদকে হেফাজতে না পাঠায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর পদ বহাল থাকবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংসদের বিধি মূলত অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এবং এটি দেশের মৌলিক আইনকে অগ্রাহ্য করে সাংসদদের কোনোভাবেই অপরাধ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না।
অন্যদিকে, বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে সংসদে এ নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছে। তবে খসড়া কমিটির সভাপতি এই পদক্ষেপকে কেবলমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।










