মমতার দাবি: ‘সংশোধিত নাগরিক তালিকা’-এর বিরোধিতায় বিপুল ভোট
কলকাতা/চেন্নাই: পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে বৃহস্পতিবার বিপুল ভোটদান লক্ষ্য করা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে প্রায় ৯২.১০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে মোট ৮৪.৯৫ শতাংশ ভোটদান হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই হার জানা গেছে, যদিও এতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
স্বাধীনতার পর এই দুই রাজ্যে এটিই সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড। এর আগে তামিলনাড়ুতে সর্বাধিক ভোটদান হয়েছিল ২০১১ সালে (৭৮.২৯ শতাংশ) এবং পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে (৮৪.৭২ শতাংশ)।
ভোটগ্রহণ শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যের মানুষ সংশোধিত নাগরিক তালিকার বিরুদ্ধে বিপুল ভোট দিয়েছেন।” অপরদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মন্তব্য করেন, “তৃণমূলের দুর্নীতি ও দমননীতির যুগ শেষের পথে।”
এর আগে অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতেও ৯ এপ্রিল রেকর্ড ভোটদান হয়েছিল। অসমে সর্বোচ্চ ৮৫.৯১ শতাংশ, পুদুচেরিতে প্রায় ৯০ শতাংশ এবং কেরলে ১৯৮৭ সালের পর সর্বাধিক ৭৮.২৭ শতাংশ ভোট পড়ে।
পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল আগামী ৪ মে একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে।
ভোট চলাকালীন সংঘর্ষ ও উত্তেজনার একাধিক ঘটনা:
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভোটগ্রহণের সময় কয়েকটি হিংসাত্মক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ মেদিনীপুরের কুমারগঞ্জ এলাকায় এক প্রার্থীকে ঘিরে জনতার আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
পশ্চিম বর্ধমানের বর্ণপুরে এক মহিলা প্রার্থীর গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়, ফলে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
বীরভূমের বোধপুর গ্রামে ভোটযন্ত্র বিকল হওয়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর পাথর নিক্ষেপ করে।
মুর্শিদাবাদের নওদা এলাকায় দেশীয় বিস্ফোরক হামলায় কয়েকজন আহত হন এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
শিলিগুড়িতে একটি বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে বচসা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে, পরে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা দাবি করেছেন, এই বিপুল ভোটদানের হার তাদের পক্ষে জনসমর্থনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। তাঁর মতে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে তাঁদের জয়ের সংখ্যা একশোরও বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন আধিকারিক সকল ভোটারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “এই বিপুল অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে।”
ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
সন্ধ্যা ছয়টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়।
কিছু কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়।
কেন্দ্রীয় বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হস্তক্ষেপ করে।
কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন সাধারণ মানুষ।
এইভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনে রেকর্ড ভোটদান যেমন গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তেমনই বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনাও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।










