শিলিগুড়িতে ‘গণতন্ত্র বাঁচান, নৈরাজ্য দূর করুন’ শীর্ষক বিশাল সমাবেশ

FB_IMG_1793718950702

পশ্চিমবঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় মানুষের ঐক্য

শিলিগুড়ি: সম্প্রতি শিলিগুড়িতে ‘গণতন্ত্র বাঁচান, নৈরাজ্য দূর করুন’, এই স্লোগানকে সামনে রেখে একটি বিশাল জনসভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী (পশ্চিমবঙ্গ), কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাসহ বিশিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতারা রাজ্যের অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন যে, সিপিআই(এম) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসনের জেরে পশ্চিমবঙ্গ প্রায় পাঁচ দশক ধরে অর্থনৈতিক দুর্দশা ও অবহেলার শিকার হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে গণতন্ত্র দুর্বল হয়েছে, সরকারি সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিপীড়ন, চাঁদাবাজি ও ‘কাট-মানি’ (অবৈধ কমিশন) সংস্কৃতির জালে আটকা পড়েছে।
এর পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালার প্রশংসা করে উল্লেখ করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সমগ্র দেশ এক রূপান্তরমূলক উন্নয়নের সাক্ষী হচ্ছে; এছাড়া, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গও এখন দ্রুত অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে।
অনুষ্ঠানটিতে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’-এর স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
​বক্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা এবং অবৈধ অভিবাসীদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা নির্বাচন কমিশনের মৌলিক দায়িত্ব—যে দায়িত্ব কমিশন অত্যন্ত সততার সঙ্গে পালন করে চলেছে।
যারা ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘ভোট চুরি’ ও নির্বাচন কারচুপির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তারা ভালোভাবেই জানে যে, একটি ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা থাকলে তারা কখনোই নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না। ঠিক এই কারণেই তারা এমন মরিয়া হয়ে অস্থিরতা দেখাচ্ছে—যার মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেওয়া।
​এই সমাবেশটি সেই সব শক্তির জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা, যারা আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। তাদের অবশ্যই বুঝে নিতে হবে যে, তাদের মিথ্যাচার, বানোয়াট বয়ান এবং অপপ্রচারের যুগের অবসান ঘটেছে। ভারতের জনগণ তাদের এই কৌশলগুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতেও তারা আমাদের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ও জনগণের রায়ের পবিত্রতাকে রক্ষা করে যাবে।
​

About Author

Advertisement