তেহরান: ইরান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিপুল পরিমাণে অত্যাধুনিক অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং সামরিক উপদেষ্টা সরবরাহ করেছে। লাল সাগরে চলাচলকারী জাহাজে হামলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এই জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার লক্ষ্যে ইরান ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং সেই সাথে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারদের পাঠিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান থেকে একটি কার্গো ফ্লাইটের মাধ্যমে ইয়েমেনে সামরিক কর্মকর্তা ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। মাহান এয়ারের ওই ফ্লাইটে আইআরজিসি-র জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ ১০ থেকে ২১ জন কর্মকর্তা ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া, সামরিক অভিযানে সহায়তা করা এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওই কমান্ডাররা সেখানে গিয়েছিলেন।
এও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই উড়োজাহাজের মাধ্যমে ইয়েমেনে সোনা পাঠানো হয়েছিল।
শুরুতে হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানাগামী বিমানটিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের হামলার ঝুঁকির কারণে লাল সাগরের বন্দরনগরী হোদাইদাহের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, ওই উড়োজাহাজের মালামালের মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ছিল—যেসব যন্ত্রাংশ অতীতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে, হুথি আন্দোলনকে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বা সামরিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হুথি গোষ্ঠীও ইরানের ‘প্রক্সি’ বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি করেছে যে তারা নিজেরাই নিজেদের অস্ত্র তৈরি করে। ইয়েমেনে গত এক দশক ধরে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হুথিরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লাল সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নৌপথে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।









