কলকাতা: সমগ্র মুর্শিদাবাদ বিধানসভার দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। লালবাগের বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপ থেকে এক উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পর্যটন পরিকাঠামোতে নতুন জোয়ার আনার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে প্রস্তাবিত কাজগুলি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং এ ব্যাপারে অর্থের কোনো অভাব হবে না।
উত্তরবঙ্গ সংবাদ সাবস্ক্রিপশন
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে এই অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য নতুন আইটিআই কলেজ, বিদ্যমান কলেজগুলিতে মর্নিং সেকশন এবং মেয়েদের কলেজ খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, তিনি লালবাগ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি ‘প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র’ চালু করার ঘোষণা করেন। আকাশপথে পরিদর্শনের সময় তিনি একটি বড় হ্রদকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান এবং বলেন যে এ বিষয়ে ২৭ তারিখে দিল্লিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও, রাজ্যে দুর্গাপূজার সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন যে এবার রাজ্যে (দুর্গাপূজা ২০২৬) পূজার সংখ্যা ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে শুধু মুর্শিদাবাদেই ৮০০-র বেশি নতুন পূজার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পূজা কমিটিগুলোকে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের লাইসেন্স সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি পূজার সময় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ ভূমিকায় মুখ্যমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বাস দেন যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালান এখন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি জলঙ্গিতে যৌথ অভিযানের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন এবং সীমান্ত এলাকায় জাল নোট, কাশির সিরাপ ও অন্যান্য মাদক পাচারের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের কথা স্মরণ করেন। তিনি আরও জানান যে, অতীতে ধর্ম রক্ষার জন্য এ দেশে আসা পূর্ব পাকিস্তানের শরণার্থীদের জন্য সিএএ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যেখানে তারা সরাসরি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের শুনানিতেই সার্টিফিকেট পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুধু পরিকাঠামোগত উন্নয়ন থেকেই নয়, সামাজিক দিক থেকেও তিনটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মাদকমুক্ত ভারত’ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি জেলাটিকে মাদকমুক্ত করার ওপর জোর দেন। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে জেলায় ১৮ বছরের কম বয়সী গর্ভবতী নারীর সংখ্যা ৯,৭০০ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাল্যবিবাহ আইনত একটি অপরাধ এবং সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি এই কুপ্রথা বন্ধ করার জন্য কঠোর প্রশাসনিক বার্তা দেন।





