নয়াদিল্লি: ফ্রান্স তাদের শক্তিশালী রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে ৬৮ মিমি লেজার-গাইডেড রকেটের সফল লাইভ-ফায়ার পরীক্ষা চালিয়েছে। ড্রোন ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তৈরি এই রকেটগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ফ্রান্সের এই পদক্ষেপটি আধুনিক আকাশযুদ্ধের এক নতুন প্রবণতাকে তুলে ধরে; যেখানে বিমানবাহিনীগুলো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরিবর্তে সাশ্রয়ী ও বহু-স্তরের ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংস্থার তথ্যমতে, ফরাসি অ্যারোস্পেস গবেষণা ও পরীক্ষাকেন্দ্রটি দাসো এভিয়েশন এবং থ্যালেস -এর সহযোগিতায় এই সমন্বয়ের কাজটি সম্পন্ন করেছে।
ড্রোন-প্রতিরোধী এই কর্মসূচিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লাডাক’। ফরাসি বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল জেরোম বেলাঞ্জার স্পষ্ট করেছেন যে, মাত্র কয়েক হাজার ডলার মূল্যের ইরানি ও রুশ-নির্মিত ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ ভূপাতিত করার জন্য দশ লক্ষ ইউরোরও বেশি মূল্যের ‘মাইকা’ (Mica) এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করাটা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত বা টেকসই নয়।
এই কারণেই এই স্বল্প-ব্যয়ের প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে; যারা রাফাল কিনছে, এমন অন্যান্য দেশের কাছেও এটি প্রস্তাব করা যেতে পারে।
ভারতীয় বিমানবহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ১১৪টি রাফাল
রাফাল যুদ্ধবিমানের ওপর ভারতের আস্থা ক্রমশ বাড়ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পর্ষদ ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১১৪টি রাফাল মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় ফ্রান্স থেকে ১৮টি রাফাল যুদ্ধবিমান সরাসরি উড্ডয়ন-প্রস্তুত অবস্থায় ভারতে আসবে এবং বাকি ৯৬টি বিমান ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পখাতে তৈরি করা হবে। এই বিমানগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হবে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনী ৩৬টি রাফাল বিমান পরিচালনা করছে; পাশাপাশি ভারতীয় নৌবাহিনীও তাদের বহরের জন্য ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের বিষয়ে চুক্তি করেছে।
গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় সন্ত্রাসবাদীদের গোপন আস্তানা ধ্বংস করে রাফাল তার নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে, যার ফলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।










