কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারে দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার ধর্মভিত্তিক সরকারি ভাতা বন্ধ করা এবং সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের মতো বড় সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে চলা ধর্মভিত্তিক শ্রেণিবিভাজনের প্রকল্পগুলি আগামী মাস থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিশেষ করে ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা এবং পুরোহিত ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ “সমান প্রশাসনিক নীতি” এবং “ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা”কে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও কিছু বিশ্লেষক একে রাজনৈতিক অবস্থানগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
সরকার স্পষ্ট করেছে যে ছাত্রবৃত্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্যান্য শিক্ষাসহায়তা প্রকল্প আগের মতোই চালু থাকবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণাও এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন পুনর্বিন্যাস এবং বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও মহার্ঘ ভাতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই বৈঠকে হয়নি, তবে বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণায় কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তির আশা তৈরি হয়েছে।মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আরও জানান, মহার্ঘ ভাতা বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে এবং ভবিষ্যতের বৈঠকগুলিতে তা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি প্রতি ১৫ দিনে নিয়মিত ক্যাবিনেট বৈঠক করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।নারীদের জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেও সরকার অগ্রসর হয়েছে।
‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা ৩০০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বর্তমান উপভোক্তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের নীতি কার্যকর করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ তালিকা পুনর্মূল্যায়ন, উপশ্রেণিবিন্যাস বাতিল এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ক্যাবিনেট বৈঠক রাজ্যের নতুন সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার, রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনকল্যাণমূলক নীতির স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।











