মোদির আমন্ত্রণ নিয়ে পাকিস্তানি বিশেষজ্ঞের স্পষ্ট বক্তব্য

photocollage_2026102819130246

বললেন: মন্ত্রী ভারতে এলেও বেশি আশা করা উচিত নয়

নয়াদিল্লি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য ভারত সংস্থার সব দশটি সদস্যদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই আমন্ত্রণের তালিকায় পাকিস্তানও রয়েছে। নয়াদিল্লিতে ২০ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রথম সভ্যতাভিত্তিক সংলাপ মঞ্চ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি ভারতে আসতে পারেন। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও তাঁর ভারত সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ২০ অক্টোবর ঘোষণা করেছিলেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রথম সভ্যতাভিত্তিক সংলাপ মঞ্চের আয়োজন করবে। এর পরেই পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচিকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়।
খিচি ভারতে এলে অপারেশন সিঁদুরের পর এটিই হবে কোনও পাকিস্তানি মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর। এর আগে ২০২৩ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে যোগ দিতে গোয়ায় এসেছিলেন।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দশটি সদস্যদেশ হল ভারত, রাশিয়া, চিন, ইরান, বেলারুশ, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান।
পাকিস্তানি বিশেষজ্ঞ কী বলেছেন?
পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ কামার চিমা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানি মন্ত্রী ভারতে এলেও এই সফর নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা রাখা উচিত নয়। এই সফরের ফলে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে বড় কোনও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি মনে করেন।
চিমা বলেন, প্রস্তাবিত বৈঠকটি দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চের অংশ। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ মেটানোর ক্ষমতা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা ব্রিকসের মতো মঞ্চগুলির নেই বলে তাঁর যুক্তি।
তিনি আরও বলেন, আওরঙ্গজেব খান খিচি পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পড়েন না। তাই তাঁর সফর থেকে বড় কোনও কূটনৈতিক সাফল্য বা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আশা করা ঠিক হবে না বলে চিমার মত।
তাঁর মতে, পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত নিজের মন্ত্রীকে ভারতে পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি। তবে এটি যেহেতু একটি বহুপাক্ষিক সংলাপের মঞ্চ, তাই পাকিস্তানের সেখানে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ভারতের কূটনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে চিমা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে সত্যিই আন্তরিক হলে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে দিত না।
পাকিস্তানের সামনে কী ধরনের দ্বিধা রয়েছে?
এই আমন্ত্রণকে ঘিরে পাকিস্তানের সামনে কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক—দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শাহবাজ শরিফ সরকার যদি নিজের মন্ত্রীকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দেশের অভ্যন্তরে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে হতে পারে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে এই পদক্ষেপ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান যদি নিজের মন্ত্রীকে ভারতে না পাঠায়, তাহলে সেটিকে বহুপাক্ষিক মঞ্চে অংশগ্রহণ থেকে দূরে সরে থাকার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হতে পারে। এর ফলে এমন বার্তাও যেতে পারে যে, পাকিস্তান তার দ্বিপাক্ষিক বিরোধগুলিকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মঞ্চ থেকে আলাদা রাখতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে।
তবে পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য সফরের ফলাফল সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তাই শাহবাজ শরিফ সরকার এই আমন্ত্রণের বিষয়ে কী অবস্থান নেয় এবং আওরঙ্গজেব খান খিচি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আমন্ত্রণ ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের বড় পরিবর্তনের কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত দেয় না। তবে দুই দেশের জন্যই বহুপাক্ষিক মঞ্চে সংলাপ ও অংশগ্রহণের সুযোগ হিসেবে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।

About Author

Advertisement