কলকাতা(সপ্তর্ষি সিংহ): তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীকে ঘোষণা করেছে বিজেপি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।
শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দান চত্বর বাঙালিয়ানা সংস্কৃতিতে সেজে ওঠে এই শপথগ্রহণকে ঘিরে। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের উপস্থিতিতে নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকে গোটা দেশ।
অনুষ্ঠানের মাঝে এক অশীতিপর বৃদ্ধ মঞ্চে প্রবেশ করলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি শিলিগুড়ির মাখনলাল সরকারকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। ৯৭ বছর বয়সী এই বৃদ্ধকে সম্মান জানানোয় আবেগে ভাসে ব্রিগেড ময়দান। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটি শুধু একজন বৃদ্ধকে সম্মান নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা।
শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণে মাখনলাল সরকারের উপস্থিতি নতুন ও পুরনো প্রজন্মের মেলবন্ধনের প্রতীক হয়ে ওঠে।
এদিন শপথ নেন মন্ত্রিসভার পঞ্চপাণ্ডবও। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন খড়গপুর সদরের দিলীপ ঘোষ, কোচবিহারের মাথাভাঙার নিশীথ প্রামাণিক, আসানসোল দক্ষিণের অগ্নিমিত্রা পাল, বাঁকুড়ার রানিবাঁধের ক্ষুদিরাম টুডু এবং বনগাঁ উত্তরের অশোক কীর্তনীয়া।
সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দিলীপ ঘোষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় নারী মুখ হিসেবে অগ্নিমিত্রা পাল শপথ নেন।
মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে বিপুল সমর্থনের কথা মাথায় রেখে বনগাঁ উত্তরের অশোক কীর্তনীয়া মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। অন্যদিকে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে কুড়মি ভোটকে গুরুত্ব দিয়ে রানিবাঁধের ক্ষুদিরাম টুডুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি সাঁওতালি ভাষায় শপথবাক্য পাঠ করেন।
উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও শপথ নেন। জানা গেছে, আগামী সোমবার লোকভবনে বাকি মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।








