শিলং: মেঘালয়ের মাওডিয়াংডিয়াংয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর কার্যালয় চত্বরে কথিত অবৈধ মন্দির নির্মাণের বিষয়ে নগর বিষয়ক দপ্তর আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও এখনও স্পষ্ট জবাব না দেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে খাসি ছাত্র সংঘ।
সোমবার খাসি ছাত্র সংঘের শিলং পূর্ব আঞ্চলিক শাখা নগর বিষয়ক দপ্তরের পরিচালককে ফের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে অবিলম্বে স্পষ্টীকরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের মতে, গত ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর থেকে দপ্তরটি এখনও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। পাশাপাশি, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনও তথ্য জানানো হয়নি।
সংগঠনের সহকারী সাধারণ সম্পাদক সেলেস্টিন রিংখাংয়ের মাধ্যমে দপ্তরের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কি মূল ভূমি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত?
খাসি ছাত্র সংঘের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভূমি চুক্তিতে ওই এলাকায় শুধুমাত্র আবাসিক ভবন এবং কার্যালয় নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় কার্যালয় চত্বরের মধ্যে একটি উপাসনাস্থল নির্মিত হয়েছে বলে দেখা যায়। এমনটাই দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের বক্তব্য, “এই ঘটনায় নির্মাণের জন্য দেওয়া অনুমতি, চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তাবলি এবং প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে চলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।”
এই বিষয়ে এখনও স্পষ্টতা না এলেও সংগঠনের নেতাদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করে বিস্ময় প্রকাশ করেছে খাসি ছাত্র সংঘ। সংগঠনের বক্তব্য, অন্যদিকে নগর বিষয়ক দপ্তর এখনও জানায়নি যে তারা এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
খাসি ছাত্র সংঘ নগর বিষয়ক দপ্তরের কাছে জানতে চেয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণের বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। যদি কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তবে তার ফলাফলও প্রকাশ্যে জানানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
দপ্তরের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন
বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ও বিস্তারিত জবাব চেয়ে খাসি ছাত্র সংঘ দপ্তরের সামনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
১। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আশ্বাস দেওয়ার পর থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কী অগ্রগতি হয়েছে?
২। সংশ্লিষ্ট স্থানে মন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়া অনুমতি আইনসম্মত কি না?
৩। মন্দির নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রামের স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা, অর্থাৎ ডরবার শ্নংয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না?
৪। নির্মাণকাজে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে?
৫। দপ্তর এখনও পর্যন্ত জবাব দিতে এত দেরি করছে কেন?
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের দাবি
নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে খাসি ছাত্র সংঘ জানিয়েছে, ভূমি চুক্তির শর্তাবলি এবং প্রচলিত আইনের পরিপন্থী যে কোনও নির্মাণের বিরোধিতা করবে তারা। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এই ঘটনা আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে সতর্ক করে খাসি ছাত্র সংঘ জানিয়েছে, উপযুক্ত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন মেনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভাবতে বাধ্য হবে তারা।
বিতর্কের নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।





