মহানায়কের প্রয়াণ দিবসে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

IMG-20260724-WA0099

কলকাতা: মহানায়ক উত্তমকুমারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাঙালির আবেগ, নস্টালজিয়া আর ভালোবাসার এই বিশেষ দিনে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে উপস্থিত হয়ে আবক্ষমূর্তি ও স্মারকফলকে মাল্যদানের মাধ্যমে মহানায়কের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সংস্কৃতিক জগতের অনেকেই আছেন যাঁরা এখনও মহানায়ককে আদর্শ মেনে পথ চলতে চান। তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাই, মহানায়কের প্রয়াণদিবসে আমরা প্রাথমিক আলোচনায় ঠিক করেছিলাম যে, যেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল সেখানেই আমরা তাঁকে হৃদয় থেকে স্মরণ করব এবং তাঁকে নিয়ে আলোচনা করব। পরিবারের অনুমতি নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” এর পাশাপাশি মহানায়কের আসন্ন জন্মদিন ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মদিন অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে পালনের কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের শুভসূচনা হতে চলেছে। শুভেন্দুর কথায়, “সংস্কৃতিক জগতের বহু শিল্পীই আমাকে মহানায়কের জন্মদিন বড় আকারে উদ্যাপন করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জন্মশতবর্ষ পালনের বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এই সময়কালের মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, মহানায়কের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এবং সংস্কৃতি চর্চার প্রসারে তাঁর নামাঙ্কিত একটি নতুন ‘ফিল্ম সেন্টার’ তৈরি করা হবে। কলকাতা পৌরসভা পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ‘উত্তম মঞ্চ’-কে নতুন করে সংস্কার করার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। নন্দন বা রবীন্দ্র সদনে একটি সভার আয়োজন করা হবে, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী নিজে পৌরোহিত্য করবেন। সেখান থেকেই জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের মূল প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে জানান, এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ এবং উদ্যাপন মহানায়কের পরিবারের পূর্ণ অনুমতি ও সম্মতি নিয়েই পরিচালিত হবে। এই অনুষ্ঠানে ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী তথা আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, স্বপন দাশগুপ্ত, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, তাপস রায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং মহানায়কের পরিবারের সদস্য ও শিল্পীরা। বাংলা সিনেমার গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “একসময় আমাদের বাংলা সিনেমার যে স্বর্ণযুগ ছিল, পরবর্তীকালে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যাতে সেই গৌরব অনেকটাই ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সেই মহিমা অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “মহানায়ক উত্তমকুমারের জীবন ও কাজ থেকে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।” অন্যদিকে, ভবানীপুরের সাধারণ ঘরের ছেলে অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘উত্তমকুমার’ হয়ে ওঠার ইতিহাস আজও বাংলা সিনেমার সোনালী অধ্যায়। শুরুর দিকে ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ তকমা পেলেও নিজের অদম্য জেদ ও অভিনয়ের দক্ষতায় ১৯৫৩ সালের ‘সাড়ে ৭৪’ ছবির পর তিনি সুচিত্রা সেনকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করেছিলেন বাংলা সিনেমার এক স্বর্ণযুগ। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘ঝিন্দের বন্দী’ বা ‘সপ্তপদী’র মতো ছবিগুলোতে তাঁর রেখে যাওয়া অভিনয়ের মাপকাঠি আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান অনুপ্রেরণা। ১৯৮০ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দর’ ছবির শুটিং চলাকালীন প্রয়াণের ৪৭ বছর পরেও কেওড়াতলা মহাশ্মশান, ভবানীপুরের বাসভবন থেকে শুরু করে নন্দনের প্রতিটি কোণায় বাঙালির মানসপটে আজও সমান উজ্জ্বল মহানায়ক।

About Author

Advertisement