ইম্ফল: মণিপুরে সক্রিয় বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে বড় সাফল্য মিলেছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী Assam Rifles ৭ মে সেনাপতি জেলার মারানমেই পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ আসাম রাইফেলস এআরএফআইইউ এবং ৩ সিআইবি-র সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য পুনরায় নিশ্চিত করার পর পুরো এলাকা ঘিরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
অভিযানের সময় একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি এমপি-৫ রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল, দুটি .২২ রাইফেল, চারটি ইম্প্রোভাইজড বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল, তিনটি .৩২ ক্যালিবার পিস্তল, দুটি .22 পিস্তল এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি বন্দুকসহ একাধিক প্রাণঘাতী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন ধরনের জীবন্ত কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে ৫.৫৬ এমএম, ৯ এমএম, .৩০৩, .৩২ এবং ১২ বোরের গুলি রয়েছে। পাশাপাশি স্নাইপারে ব্যবহৃত ৭.৬২×৫৪ এমএম রাউন্ডও পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে খালি কার্তুজ ও অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মণিপুরে বাড়ছে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ:
গত কয়েক বছরে মণিপুরে জাতিগত উত্তেজনা, সীমান্তপারের অপরাধচক্র এবং বিদ্রোহী সংগঠনগুলির সক্রিয়তার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র মজুত, মাদক পাচার এবং সশস্ত্র কার্যকলাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অস্ত্রভাণ্ডার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির নেটওয়ার্ক পরিচালনা, হামলার পরিকল্পনা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিরতা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাই আসাম রাইফেলসের এই অভিযানকে উত্তর-পূর্ব ভারতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক দুর্বল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর অঙ্গীকার:
আসাম রাইফেলস জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের বিদ্রোহবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে বাহিনী জানায়, “এত বড় পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এ ধরনের অভিযান সন্ত্রাসবাদী ও বিদ্রোহী সংগঠনগুলির ক্ষমতা দুর্বল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও শক্তিশালী করবে।










