কোহিমা: একটি নতুন প্রতিবেদনে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডে আয় বৈষম্য যথেষ্ট বেশি বলে উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয় হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এক গবেষণায় রাজ্যটির গিনি সহগ ০.৪৬ পাওয়া গেছে, যা মধ্যম থেকে উচ্চ মাত্রার আয় বৈষম্য নির্দেশ করে।
গবেষণা অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে আয় বৈষম্য গ্রামীণ এলাকার তুলনায় কিছুটা বেশি। শহরের গিনি সহগ ০.৪৪, আর গ্রামীণ এলাকায় এটি ০.৪২, যা স্পষ্ট করে যে শহরাঞ্চলে অর্থনৈতিক বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আয় বণ্টনে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। রাজ্যের নিম্ন ৫০ শতাংশ পরিবার মোট আয়ের মাত্র প্রায় ১৮ শতাংশ পায়, যেখানে শীর্ষ ৫ শতাংশ পরিবার প্রায় ২১ শতাংশ আয় নিয়ন্ত্রণ করে। গড় আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ফারাক রয়েছে—শীর্ষ ৫ শতাংশ পরিবারের মাসিক গড় আয় ৭১,০২৮ টাকা, আর নিম্ন অর্ধেক পরিবারের গড় আয় মাত্র ১,৬৩৯ টাকা।
এই সমীক্ষাটি অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে ৪,৩৯৬টি পরিবারে করা হয়। এতে শহরাঞ্চলের ৬০টি ওয়ার্ডের ১,৩১৫টি পরিবার এবং গ্রামীণ এলাকার ১৪০টি গ্রামের ৩,০৮০টি পরিবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে লংলেং জেলা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে (গিনি সহগ ০.৪৯২), আর ফেক জেলা সবচেয়ে কম বৈষম্যপূর্ণ (০.৩৬৬)। গ্রামীণ পর্যায়েও লংলেং শীর্ষে রয়েছে, অন্যদিকে জুনহেবোতো জেলায় সবচেয়ে কম বৈষম্য (০.৩৩০) দেখা গেছে।
সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ:
এই প্রতিবেদনটি দেখায় যে পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও তার সুফল সমভাবে বিতরণ হচ্ছে না। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বাড়তে থাকা বৈষম্য কর্মসংস্থান, আয়ের উৎসের সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রীকরণকে তুলে ধরে। দীর্ঘমেয়াদে এই বৈষম্য সামাজিক ভারসাম্যহীনতা ও অসম উন্নয়ন আরও বাড়াতে পারে।








