ইম্ফল: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর-এর কামজং জেলা-এ বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘটিত সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত–মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে সংঘটিত সমন্বিত হামলায় বহু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের মতে, ভোর প্রায় ২টার সময় নামলি বাজার এবং চোরো গ্রামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় কেএনএ-বি (কুকি ন্যাশনাল আর্মি–বার্মা)-এর সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের জড়িত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলায় ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক করে তুলেছে, কারণ এটি জঙ্গি কার্যকলাপে আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ইঙ্গিত বহন করছে।
হামলার পর গ্রামের বহু বাড়িঘর পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রান্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মণিপুরের পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে পরিচালিত হামলা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সশস্ত্র সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তবে ড্রোন ব্যবহারের আশঙ্কা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনা মণিপুরে চলমান জাতিগত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। ৩ মে ২০২৩ সালে পাহাড়ি জেলাগুলোতে অনুষ্ঠিত ‘আদিবাসী সংহতি মিছিল’-এর পর মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সম্প্রতি এই সহিংসতার তৃতীয় বর্ষপূর্তিও মিছিল, জনসভা ও বন্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়েছে, যা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যকার অবিশ্বাস এখনো কাটেনি বলেই ইঙ্গিত দেয়।
সাম্প্রতিক এই হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জঙ্গি কার্যকলাপ, জাতিগত উত্তেজনা এবং সীমান্তপারের নিরাপত্তাহীনতা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।










