নয়াদিল্লি: ভারত সরকার দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১ এপ্রিল থেকে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (ই২০) বিক্রি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ব্যবস্থা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।
সরকার বলেছে, এই পদক্ষেপের ফলে আমদানি করা কাঁচা তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমবে, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
মন্ত্রণালয় তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা ভারতীয় মান ব্যুরোর (বি আইএস) মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম ৯৫ রিসার্চ অকটেন নম্বর(আরওএন) সহ ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল সরবরাহ করবে।
রিসার্চ অকটেন নম্বর হল জ্বালানির গুণমান ও স্থায়িত্বের সূচক। এটি নির্দেশ করে যে, জ্বালানি ইঞ্জিনে কতটা কম্প্রেশন সহ্য করতে পারে, কোনও ‘নকিং’ ছাড়া। নকিং-এর সময় ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইথানলের অকটেন নম্বর প্রায় ১০৮ ধরা হয়, যা জ্বালানির নক-প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ায়।
ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য থেকে তৈরি করা হয়। এটি প্রথাগত পেট্রোলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সাল থেকে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির কারণে দেশ প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি রুপি বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে কাঁচা তেলের আমদানি কমেছে।
ভারত ২০২২ সালের জুনে ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগে অর্জন করেছিল। এরপর ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ মিশ্রণের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল, যা এখন বিস্তৃতভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
সরকার বলেছে, ২০২৩ সালের পরে নির্মিত অধিকাংশ নতুন যানবাহন ই২০ অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়েছে এবং তাদের কোনও বড় প্রযুক্তিগত সমস্যার আশঙ্কা নেই। তবে, পুরোনো যানবাহনে ৩ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজের হ্রাস হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রাবার এবং প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও বলা হয়েছে।
সরকার এবং যানবাহন শিল্পের মত অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ধাপে ধাপে এবং সুষমভাবে কার্যকর করা হবে, যাতে ব্যবহারকারীদের উপর অতিরিক্ত বোঝা না পড়ে।









