​​ভারতে আইসিসের ‘বায়ো-টেরর’ বা জৈব-সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র

IS-K-a

রিসিন ব্যবহার করে বিষ ছড়ানোর চেষ্টা; জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ

নয়াদিল্লি: ভারতে ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) সাথে সংশ্লিষ্ট একটি কথিত জৈব-সন্ত্রাস বা বায়ো-টেরর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ব্যাপক হারে প্রাণঘাতী বিষ ‘রিসিন’ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রের প্রতি আইএসআইএস ও আল-কায়েদার অব্যাহত আগ্রহের বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করার পর এই হুমকি আরও তীব্র হয়েছে।
ভারতে এই হুমকি কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে, গুজরাটের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী শাখা (এটিএস) হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক চিকিৎসক সৈয়দ আহমেদ মহিউদ্দিন এবং উত্তর প্রদেশের আরও দুজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ২০১৬ সালের মে মাসে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মূল অভিযুক্ত মহিউদ্দিন হায়দ্রাবাদে নিজের বাড়িটিকে একটি গোপন গবেষণাগারে পরিণত করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে এবং সে বিদেশে থাকা আইএসআইএস হ্যান্ডলারদের সাথে যোগাযোগ রেখে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও চার লিটার ক্যাস্টর অয়েলসহ তাকে একটি টোল প্লাজা থেকে আটক করা হয়। অনলাইন মাধ্যমের সাহায্যে চরমপন্থী বিষয়বস্তু এবং জৈব বিষ তৈরির নির্দেশিকা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথাগত সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধের পাশাপাশি, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও জৈব উপাদান ব্যবহার করে আইএসআইএস-এর ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা এখন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About Author

Advertisement