কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশে জ্বালানি ও স্বর্ণ ব্যবহারে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানোর পর ভারতের অর্থনৈতিক ও শিল্পমহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নাগরিকদের পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি অন্তত এক বছর স্বর্ণ ক্রয় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই আবেদনের পর কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের কাছে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং ৪৫ দিনের তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে দেশের শীর্ষ শিল্পমহল ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কোটক মহিন্দ্রা ব্যাংকের উদয় কোটক সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব এখন সরাসরি জ্বালানির দামে পড়তে শুরু করবে, যার চাপ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে। তিনি আরও বলেন, দেশকে অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
অন্যদিকে, ভারতী এয়ারটেলের সুনীল মিত্তল প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। তাই স্বর্ণ আমদানির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের দিকে মনোযোগ দেওয়াই সময়ের দাবি।
স্বর্ণ শিল্পের বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। জুয়েলারি পরিষদের চেয়ারম্যান রাজেশ রোকড়ে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কেনায় নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করেছেন, তবে সতর্ক করে বলেছেন যে গয়না বিক্রি সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত হলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কোটি মানুষের জীবিকা সংকটে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান দেশের অর্থনীতিতে গভীর সংকেত বহন করছে, যার মোকাবিলায় সরকার ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।










