বিরলা টায়ার্সের ‘মা আসছে’ উদ্যোগ: প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষের কাছে পৌঁছল দুর্গাপুজোর আনন্দ

Birla Tyre initiative

কলকাতা: ভারতের অন্যতম প্রধান টায়ার ব্র্যান্ড বিরলা টায়ার্স তাদের বিশেষ সামাজিক উদ্যোগ ‘মা আসছে’-এর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর আনন্দ পৌঁছে দিয়েছে সেইসব মানুষের কাছে, যাঁরা শারীরিক অক্ষমতা, স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, বার্ধক্য বা অন্য কোনও কারণে প্রচলিত পুজো মণ্ডপে গিয়ে মা দুর্গার দর্শন করতে পারেন না।
২০২৬ সালের ১৭ ও ১৮ অক্টোবর আয়োজিত এই দু’দিনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং পরিচর্যা কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষদের মা দুর্গার দর্শন, পুজো-অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। সংস্থার মতে, এই উদ্যোগ বিশ্বাস, অন্তর্ভুক্তি, সহমর্মিতা এবং সামাজিক সংহতির বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
‘মানুষ যদি মায়ের কাছে যেতে না পারেন, তবে মা নিজেই তাঁদের কাছে আসতে পারেন’, এই ভাবনা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিরলা টায়ার্স একটি বিশেষ গাড়িকে মা দুর্গার প্রতিমা দিয়ে সাজিয়ে চলমান দুর্গাপুজো মণ্ডপের রূপ দেয়। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বার্ধক্য বা অন্য পরিস্থিতির কারণে পুজো মণ্ডপে পৌঁছতে অক্ষম মানুষদের কাছেও উৎসবের আনন্দ পৌঁছে দেওয়া হয়।
হাওড়া ও হুগলির বিভিন্ন স্থানে পৌঁছল এই উদ্যোগ
ঠাকুরপুকুর থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা হাওড়া ও হুগলি জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছয়।
১৭ অক্টোবর চলমান পুজো মণ্ডপটি ধূলাগড়ের ইন্ডিয়ান অয়েল, ফুলেশ্বরের সঞ্জীবন হাসপাতাল এবং বাগনানের সন্তোষ প্রমোদা ওল্ড এজ হোম অ্যান্ড হসপিটাল পরিদর্শন করে।
একইভাবে, ১৮ অক্টোবর এই উদ্যোগ পৌঁছে যায় ডানকুনির হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, সিমলা ওল্ড এজ হোম এবং শ্রীরামপুরের ইএসআই হাসপাতালে। এই স্থানগুলিতে উপস্থিত মানুষজন মা দুর্গার দর্শন করার পাশাপাশি পুজোর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক আনন্দে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
সমাজের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার অঙ্গীকার
এই উদ্যোগ সম্পর্কে বিরলা টায়ার্সের বিজনেস হেড সোমেশ সতনালিকা বলেন, “দুর্গাপুজো বিশ্বাস, ঐক্য ও আনন্দের উৎসব। ‘মা আসছে’-এর মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য ছিল সেইসব মানুষের কাছে উৎসবের আনন্দ পৌঁছে দেওয়া, যাঁরা পুজো মণ্ডপে যেতে পারেন না। এই উদ্যোগ আমরা যে সমস্ত সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করি, তাঁদের সঙ্গে নিরন্তর সংযোগ বজায় রাখার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।”
‘মা আসছে’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিরলা টায়ার্স যাতায়াত, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে একসূত্রে যুক্ত করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রচলিত পুজো মণ্ডপ থেকে দূরে থাকা মানুষদের কাছে উৎসবের আনন্দ পৌঁছে দিয়ে সংস্থাটি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।
এই উদ্যোগ দুর্গাপুজোর সেই মূল্যবোধগুলিকেও তুলে ধরে, যা এই উৎসবকে বিশেষ করে তোলে—অন্তর্ভুক্তি, সহমর্মিতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঐক্য। ‘মা আসছে’-এর মাধ্যমে বিরলা টায়ার্স এই বার্তা দিয়েছে যে উৎসবের প্রকৃত আনন্দ তখনই সার্থক হয়ে ওঠে, যখন তার খুশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

About Author

Advertisement