কলকাতা: প্রয়াত পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল ডি ওয়াই পাটিল। মঙ্গলবার সকালে মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে নিজের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। নিজের জীবনকালে গোটা দেশ জুড়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। পাশাপাশি, বাংল, ত্রিপুরা এবং বিহারের রাজ্যপাল পদেও নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ৩ জুলাই ২০১৪ থেকে ১৭ জুলাই ২০১৪ পর্যন্ত ১৪ দিনের জন্য বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৩৫ সালের ২২ অক্টোবর ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ডি ওয়াই পাটিল। ভারতের নাগরিকদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। তবে, শুধুই শিক্ষাবিদ হিসেবে নয়। ডি ওয়াই পাটিল ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদও। মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় দীর্ঘদিন জাতীয় কংগ্রেসের এমএলএ হিসেবে ছিলেন তিনি। তাঁর তৈরি করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। তাঁর তৈরি করা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সুলভে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন বহু মানুষ।সামাজিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯১ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী উপাধি দেয় ভারত সরকার। বর্ষীয়ান রাজনীতিক এবং শিক্ষাবিদ মহারাষ্ট্রজুড়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। তাঁর তিন পুত্র। তাঁরা হলেন, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা সতেজ পাটিল, সঞ্জয় পাটিল ও অজিঙ্ক পাটিল। কোলহাপুরের বাসিন্দা পাটিল ১৯৬৭-৭৮ পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন। এরপর তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে নজর দেন এবং ডি ওয়াই পাটিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে মেডিসিন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য বিভিন্ন কোর্স পড়ানো হয়। পদ্মশ্রী-প্রাপক পাটিল ত্রিপুরা, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে রাজ্যপালের দায়ভার সামলেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে বহু নেতা শোকপ্রকাশ করেছেন। স্মরণ করেছেন তাঁর অবদানকে। কংগ্রেস সাংসদ ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি পাটিলের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, শিক্ষা ও জনসেবার ক্ষেত্রে প্রাক্তন এই রাজ্যপালের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। তিনি লিখেছেন, “ডি. ওয়াই. পাটিল গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ত্রিপুরা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল পদ্মশ্রী ডি. ওয়াই. পাটিলের প্রয়াণের খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।”










